ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ব্রিটেন-ফ্রান্স-কানাডার

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

গাজায় নতুন করে শুরু করা সামরিক অভিযান বন্ধ না করলে এবং মানবিক সাহায্য পাঠানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুললে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্স। এই তিন পশ্চিমা দেশের নেতারা গতকাল সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

Manual4 Ad Code

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার নতুন করে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। এরপর, গতকাল সোমবার নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল গাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছেন। লাখ লাখ মানুষ খাবারের অভাবে অনাহারে দিন যাপন করছেন। অবশ্য, ইসরায়েল গতকাল সামান্য পরিমাণে কিছু ত্রাণ সহায়তা গাজায় ঢোকার অনুমতি দিয়েছে, যা যথেষ্ট নয়।

ব্রিটিশ সরকার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল সরকারের তরফ থেকে বেসামরিক জনগণের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অস্বীকার করা কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন। আমরা পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করি…প্রয়োজনে আমরা সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ আমরা আরও পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।’

তিনি দেশের এই বিবৃতির জবাবে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘লন্ডন, অটোয়া ও প্যারিসের নেতারা গত (২০২৩ সালের) ৭ অক্টোবরের গণহত্যার একটি বিশাল পুরস্কার দিচ্ছেন, যা আরও নৃশংসতাকে উসকে দিচ্ছে।’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইসরায়েল ন্যায়সংগত উপায়ে নিজেকে রক্ষা করবে যতক্ষণ না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলি জনপদে হামলা চালানোর পর থেকে ইসরায়েল গাজায় চিকিৎসা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠীটি জিম্মিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই বিষয়ে ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সের নেতারা বলেছেন, ‘আমরা সব সময় ইসরায়েলের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের রক্ষা করার অধিকারকে সমর্থন করেছি। কিন্তু এই সংকট সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তাঁরা বলেন, নেতানিয়াহু সরকার ‘এই জঘন্য কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে গেলে তাঁরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না।

এই তিন দেশের নেতারা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা আরও বলেছেন, সংঘাতের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অংশ হিসেবে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হামাস এই যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা পুনরুদ্ধারের দিকে ‘এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে।

Manual3 Ad Code

প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের স্থল ও বিমান হামলায় গাজা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সেখানকার প্রায় সব বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে। সেদিন হামাস ইসরায়েলে ঢুকে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে।

Manual4 Ad Code

ডেস্ক: এন

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code