

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে জুলাই আন্দোলনের আসামীদের নিয়ে আওয়ামী দোসরদের নিজেদের গণমাধ্যমে নিরব ভূমিকা পালন করায় মৌলভীবাজারের একাধিক স্থানে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী (বিক্ষোভ) করেছে ছাত্রজনতা। এ সময় তারা মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে বলা হয় আওয়ামী লীগ শাসনামলের দুঃশাসন ও অপশাসনের সহযোগী, দালাল সাংবাদিক এবং ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা ফের মাঠে নেমেছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব মোড়ে মানববন্ধনে সমবেত হন নেতাকর্মীরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী পালন করেন।
এসময় আন্দোলনে নেতৃবৃন্দ দাবি জানান গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নৃশংস হামলা, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও জোড়া খুনের আসামি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী তুষার ও তার সহযোগিদের জামিন নামঞ্জুর এবং দ্রুত বিচার করতে হবে।
নেতা সুজন আহমেদ, ফখরুল ইসলাম এবং মুস্তাফা আহমেদ বলেন, হামলা মামলার আসামি তুষার জামিনে বেরিয়ে আসার হুমকি দিচ্ছে। মামলার বিচার চলছে। প্রেস ক্লাব এখনও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা বলেন, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে থাকা আওয়ামী দালাল সাংবাদিকদের কারণে স্থানীয় মিডিয়া রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা ন্যায়বিচারের পথকে ব্যাহত করছে।
কর্মসূচীতে অন্য একটি ব্যানারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব আওয়ামী লীগের দালালদের দখল থেকে মুক্ত করতে হবে। এসময় ব্যানারে আওয়ামী নেতৃবৃন্দের সাথে কতিপয় সাংবাদিকদের ছবি দেখা যায়।
মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা দখলদার সাংবাদিকদের তালা ভেঙে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে পুনরায় তালা দেন তারা। পরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে মেইন ফটকের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা।
আন্দোলেনের ব্যানারে ছাপা ছবিতে “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি পরিদর্শন ও জিয়ারত, টুঙ্গীপাড়া, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর” লিখা ব্যানারের পেছনে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব জবরদখলকারী পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দালাল সাংবাদিকদের একনেতা ও তার কয়েকজন সহযোগীকে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, বর্তমান প্রেস ক্লাবের নেতারা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুসারী ছিলেন তারা প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য হাসিনা সরকারের পক্ষে কাজ করেছে, এরমধ্যে কথিত জাতীয়তাবাদী ঘরানার মুখোশধারী সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশী বিপদজনক ভূমিকা পালন করেন তাদের দাবি। তারা বলেন জাতীয়তাবাদী ঘরানার গণমাধ্যমে কাজ করেও এখনো তারা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচেছন ও আগের মতন ই দালালি অব্যাহত রেখেছে। তারা তাদের স্বার্থে নীরব থাকেন আবার তাদের স্বার্থে সবর হন।
তারা আরো বলেন,বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা বিরোধিতা করেছে, সাফাই করেছে হাসিনা পক্ষে । যারা নৌকায় প্রকাশ্য ভোট দিয়ে ফেইসবুকে দিয়েছিল তারাই নিজেদের নানা ধরণের অপকর্ম আড়াল করার জন্য প্রেসক্লাবে জুলাই প্রদর্শনীর নামে অভ্যুত্থানের শহীদ আহতদের সাথে তামাশা করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তাই তাদের থামাতে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।
এই কর্মসূচির পর ফেইসবুকে মুহাম্মদ সুমন একজন লিখেন “সাংবাদিক ক্লাবে যখন তালা লাগে । তার মানে সেই ক্লাবে সাংবাদিক থাকত না চুর বাটপার থাকতো। মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের এটাই সত্যের আড়ালে মিথ্যা বসবাস করত। ছি ছি ছি মৌলভীবাজার সাংবাদিক সমাজ ছি ছি ছি।”
উল্লেখ্য ১৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম মেহেদী হাসান এবং স্থায়ী সদস্য আবুল হায়দার মো. তারিকের উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় দুই সাংবাদিকদের নেতৃত্বে বহিরাগতরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়। হামলার পর, প্রেস ক্লাবটি আওয়ামীপন্থী একটি গোষ্ঠী দখল করে নেয় যারা গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে সুবিধাভোগী ছিল। অতীতে, যারা আওয়ামী লীগের দালালি ব্যবসায় জড়িত ছিল বলে জানা যায়।