রায়হানের মায়ের কাছে ভোররাতে আসা সেই ফোন কলের রহস্য উদঘাটন!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার যুবক রায়হান আহমদ নির্যাতনে মৃত্যুরবণ করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের অভিযোগের তীর পুলিশের দিকে। এ ঘটনা নিয়ে দুইদিন থেকে সিলেটসহ পুরো দেশেই বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত আড়াইটায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় রায়হান আহমদের স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তান্নি পুলিশের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে মেরে নির্যাতন মেরে ফেলার অভিযোগ করেন।

এদিকে, রায়হানের পরিবারের পক্ষ হতে অভিযোগ আসার পর থেকেই একটি ফোন কল নিয়ে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশা ও রহস্যের। সেই রহস্য অবশেষে উদঘাটন হয়েছে আজ সোমবার। নাম্বারটি সেই রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্তব্যরত কনস্টেবল তৌহিদ মিয়ার।

Manual1 Ad Code

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ পিপিএম’র সঙ্গে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি সিলেটভিউ-কে বলেন, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়ার মোবাইল ফোন থেকে রায়হানের পরিবারে কল করা হয়েছিলো ঠিকই, তবে ফোন করে ঠিক বলা হয়েছিলো, টাকা দাবি করা হয়েছিলো কি-না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নির দায়ের করা মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে তার স্বামী রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থল নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. শান্তা রাণীর চেম্বারে যান। পরদিন (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে  ০১৭৮৩৫৬১১১১ মোবাইল নাম্বার থেকে শ্বাশুড়ি (রায়হানের মা সালমা বেগম)-এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার (০১৭৮৭৫৭০৯৪৯)-এ কল দিলে সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ। এসময় রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাঁকে বাঁচাতে  দ্রুত টাকা নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান।

রায়হান আহমদের চাচা (যিনি রায়হানের সৎ বাবাও) হাবিবুল্লাহ সিলেটভিউ-কে বলেন, রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি অপরিচিত নাম্বার (০১৭৮৩৫৬১১১১) থেকে কল দেওয়া হয়। আমি সে কল ধরার পর কথা বলে রায়হান। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমারে বাঁচাওরেবা। আমারে বাঁচাও।’ এরপর আমি তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছে। এসময় ফাঁড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বলে রায়হান।

Manual1 Ad Code

উল্লেখ্য, পুলিশি নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাহার করা হয়েছে আরও তিন পুলিশ সদস্যকে। সোমবার বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Manual4 Ad Code

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন- বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার তিন মাসের এক মেয়ে রয়েছে। নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতো সে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code