ডেস্ক রিপোর্ট : জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নবজাতকদের জন্য একটি স্বাগত বোর্ডে হামাসের প্রয়াত রাজনৈতিক নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের নাম প্রকাশের পর দেশটিতে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালটি একটি বোর্ড প্রতিদিন “স্বাগতম” বাক্যাংশ লিখে সেখানে জন্ম নেওয়া শিশুদের নামের তালিকা প্রদর্শন করে। কিন্তু রবিবার হাসপাতালটির কর্মীরা তালিকায় “ইয়াহিয়া সিনওয়ার” নামটি অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রদর্শন করে। এটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় নিহত প্রাক্তন হামাস নেতার পুরো নাম। বিষয়টি কিছু দর্শকের মধ্যে বিস্ময় এবং কিছুটা “অস্বস্তি” সৃষ্টি করে। একজন স্টাফ নামের “আই” অক্ষরের উপরে একটি ভালোবাসা চিহ্ন এঁকেছেন বলে জানা গেছে। এটি প্রতিক্রিয়া আরো বাড়িয়ে তোলে। হাসপাতালটি ইনস্টাগ্রামে বোর্ডের একটি ছবি শেয়ার করার পর সমালোচনামূলক মন্তব্য এবং হতবাক অভিব্যক্তির ঝড় উঠেছে। পরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে। জানিয়েছে, কর্মীরা এই নামটির রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
“এই ক্ষেত্রে, ছবিটি পোস্ট করা ব্যক্তি জানতেন না যে, নামটি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল, এটি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জড়িত একজন সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত,” জার্মান সংবাদপত্র বিল্ডকে দেওয়া এক মন্তব্যে একথা বলেছেন হাসপাতালের মুখপাত্র জর্ন গ্লাসনার। হাসপাতালটি স্বীকার করেছে, পোস্টটি “অস্বস্তি বা যন্ত্রণার অনুভূতি” সৃষ্টি করতে পারে এবং এই পোস্ট দ্বারা যারা আঘাত পেয়েছেন বা উত্তেজিত হয়েছেন তাদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চেয়েছে।
“ভবিষ্যতে এই ধরণের বিষয়গুলি মোকাবেলা করার সময় আরও সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা এই ঘটনাটিকে আমাদের অভ্যন্তরীণ পদ্ধতি পর্যালোচনা করার সুযোগ হিসাবে নিচ্ছি,” আরও জানিয়েছে হাসপাতালটি।গাজায় হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সিনওয়ার ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং শিন বেট এক যৌথ বিবৃতিতে বলার একদিন পর এই ঘোষণা আসে যে, তারা গাজা অভিযানে সিনওয়ার সহ তিনজনকে হত্যা করেছে। তার বয়স ৬১ বছর এবং মৃত্যুর সময় তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন। পরে একটি ময়নাতদন্তে জানা গেছে, তিনি নিহত হওয়ার আগে কমপক্ষে তিন দিন ধরে কিছু খাননি।
ইসরায়েল সিনওয়ারকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর “আল-আকসা ফ্লাড” অভিযানের পরিকল্পনার জন্য দায়ী করে। এই অভিযান চলাকালীন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা গাজা উপত্যকার কাছে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং বসতিগুলিতে অভূতপূর্ব আক্রমণ চালায়। এতে ব্যাপক হতাহত হয় এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীগুলির সুনাম নষ্ট হয়। জার্মান ইহুদি র্যাপার বেন সালোমো ইনস্টাগ্রামে বোর্ডের একটি ছবি পোস্ট করার পর লাইপজিগ হাসপাতালের বিতর্ক আরও তীব্র হয়। এতে নাম প্রদর্শনের জন্য হাসপাতালের নিন্দা জানানো হয়। তার পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত করে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডাই ওয়েল্ট জানিয়েছে, শিশুটির নামকরণের কারণ এখনও অজানা এবং শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয় সম্পর্কে কোনও বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। সিভিল রেজিস্ট্রি অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে নামটি গ্রহণ করবে কিনা তাও স্পষ্ট নয়।প্রথম নাম “ইয়াহিয়া” আরব বিশ্ব জুড়ে প্রচলিত এবং ইউরোপে দিন দিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন মতে, ইয়াহিয়া নামটি যুক্তরাজ্যের শিশুর নামের র্যাঙ্কিংয়ে ৩৩ স্থান উপরে উঠে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ছেলেদের জন্য শীর্ষ ১০০টি জনপ্রিয় নামের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য মতে, সেই বছর ৫৮৩ জন ছেলের নাম রাখা হয়েছিল ইয়াহিয়া।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।