ঋণের দায়ে যাদের মৃত্যু, ঋণ করেই তাদের চল্লিশা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

Manual7 Ad Code

ঢাকা ডেস্ক

ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করা মিনারুল ইসলাম (৩৫)। আর আত্মহত্যার আগে স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩০), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলাকে (৩) হত্যা করেন মিনারুল। এবার মিনারুলের বাড়িতে এবার ঋণ করে চল্লিশা করা হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামে তাদের মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে চল্লিশায় প্রায় এক হাজার মানুষকে মুড়িঘণ্ট দিয়ে ভাত খাওয়ানো হয়েছে বলে জানা।

Manual6 Ad Code

মৃত্যুর আগে মিনারুল চিরকুটে লিখে গিয়েছেন, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’ সেই মিনারুল এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের জন্য চল্লিশা খাওয়ালেন তার পরিবার। তাও আবার ঋণের টাকায়। চল্লিশায় আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল সমাজের প্রায় এক হাজার মানুষকে।

মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী জানিয়েছেন, জমি বিক্রি করে এই ঋণ শোধ করবেন।

Manual7 Ad Code

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেল করা হয়। প্যান্ডেলে বসে খাবার খান আমন্ত্রিতরা। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল ও মুড়িঘণ্ট। ভ্যানে চড়ে দূরের গ্রাম থেকে আসেন আত্মীয়-স্বজনরা। আসেন পুরো গ্রামের মানুষও।

Manual5 Ad Code

 

মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী বলেন, এই অনুষ্ঠানকে কেউ বলে চল্লিশা, কেউ বলে ফয়তা। বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি। সমাজের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এটা করতে হয়। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী করে। আমি গরিব মানুষ-মাংস করতে পারিনি। মাছ দিয়ে মুড়িঘণ্ট আর ডাল করেছি।

তিনি বলেন, আশপাশের মানুষজন বলছিল চারজন মরার কারণে বাড়িটা ভারী ভারী লাগছিল। ছোট ছিলেপিলেরা ভয় পাচ্ছিল। তাই অনুষ্ঠানটা করলাম, যাতে ভয় ভাঙে। বাড়ি যেন পাতলা হয়। এ কারণে দুপুরে দোয়া হয়েছে। খাওয়া দাওয়া প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হলো। আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের মিলিয়ে এক হাজার মানুষের আয়োজন করা হয়েছিল।

Manual3 Ad Code

টাকা জোগাড় হলো কীভাবে জানতে চাইলে রুস্তম আলী বলেন, সবই ধারদেনা। আমার তো জমানো টাকা নাই। ১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচব, বেচে ধার শোধ করব। তা ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • ঋণ করেই তাদের চল্লিশা
  • ঋণের দায়ে যাদের মৃত্যু
  • Manual1 Ad Code
    Manual3 Ad Code