

ডেস্ক রিপোর্ট:চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১১ কোটি ৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৮ টাকার রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব অর্জনে এই বড় ধরনের ধস নেমেছে। ভোমরা কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই কাস্টম হাউসের জন্য ২ হাজার ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ধীরগতির কারণে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
বন্দরের ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বন্দরে। ফলে আগের তুলনায় আমদানি-রপ্তানি অনেক কমে গেছে, যা সরাসরি রাজস্ব আদায়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বন্দরে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভোমরা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় কোনো বাধা নেই এবং সব ব্যবসায়ীর জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্য ব্যবস্থাকে গতিশীল ও বহুমুখী করে তোলা। বাণিজ্য প্রসারের মাধ্যমে দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচন সম্ভব। এদিকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখছেন বলে জানান ভোমরা কাস্টম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আশাবাদ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের বিশ্বাস, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন বলে মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্ট অনেকে। ভোমরা বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাভাব চলছে। আমদানি-রপ্তানি হ্রাস, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের খরা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাবে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বাণিজ্য খাতের এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।