ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর যাতে এই প্রিয় মাতৃভূমি তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে— এই প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই জাতীয় ঐক্য অটুট এবং বজায় থাকবে, ইনশাআল্লাহ।আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

Manual5 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদের রীতি অনুযায়ী সারা বিশ্বে যেটি প্র্যাকটিস, সেই অনুযায়ী অবশ্যই আমাদের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকবে। তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা।’দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতিবছর এ দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। যেকোনোভাবে হোক সেই দুর্নীতি হাত বেঁধে হোক, আর টুঁটি চেপে ধরে হোক, তা নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের যেসব চাওয়া রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একটি নিরাপদ পরিবেশ। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এর অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।’

Manual5 Ad Code

এ সময় বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো; যেমন- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করা এবং কৃষি , স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।এসব সুবিধা নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের করুণা নয়, বরং এগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঋন নির্ভর নয়, আমরা বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি হবে আমাদের মূল চালিকা শক্তি। বর্তমান সরকার এমনভাবে পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে ২০৩৪ সালে আমরা ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি চলে যেতে পারি।’তিনি বলেন, ‘সমগ্র বিশ্ব একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অপরিসীম। এমন পরিস্থিতিতেও আমরা অর্থনৈতিকভাবে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশের জনগণ পরিশ্রমী। আমাদের তরুণরা উদ্যমী, আমাদের কৃষকরা পরিশ্রমী এবং উৎপাদনশীল। আমাদের উদ্যোক্তারা সম্ভাবনাময়। আমি বিশ্বাস করি আমরা যদি ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূর করতে পারি, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারি, তাহলেই আমরা শহীদদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

Manual2 Ad Code

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর আমাদের সরকার বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে স্বৈরাচার-তাঁবেদার রুখতে হলে অবশ্যই রাষ্ট্র ও জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।’ এ ব্যাপারে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Manual2 Ad Code

বাজেট অধিবেশনের সাথে সম্পৃক্ত সংসদ সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে এক মাসের বেতনের সমপরিমান অর্থ প্রদানের জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান সংসদ নেতা।গত ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। আজ এই অধিবেশন শেষ হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code