যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ দিন আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালালে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সর্বশেষ সংঘাতে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর রোববার তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা ছয় মাস ধরে চলা দুই দেশের সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যেই ঘটছে।

Manual3 Ad Code

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান এখনও শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ওয়াশিংটন দেশটির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দিচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ইরানকে চাপে ফেলে নতি স্বীকারে বাধ্য করা।

Manual4 Ad Code

রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভাষণে গালিবাফ বলেন, ‘সমানুপাতিক জবাব দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে আরও দ্রুত, আরও তীব্র ও আরও বেদনাদায়ক।’এদিকে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করবে তেহরান।

Manual1 Ad Code

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, এই এলাকা মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের সীমারেখা থেকে শুরু হয়ে পারস্য উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। নতুন এই এলাকায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরান দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ—একটি বিমানবাহী রণতরি ও একটি ডেস্ট্রয়ার—লক্ষ্য করে হামলা চালালেও তা ব্যর্থ হয়।

Manual8 Ad Code

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। মার্কিন দাবি করেছে, জাহাজগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজগুলোতে হামলার পর বড় ধরনের আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে।সেন্টকমের দাবি, জাহাজ তিনটি ‘বহু বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ’, যার মাধ্যমে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়।

এরপর ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানায়, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর ‘অনুমোদনহীন পথে’ চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজ এবং অন্যান্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অনুমোদিত নয়—এমন কোনো পথে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা না করতেও সতর্ক করে তারা।রোববার ভোরে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন নৌ-ড্রোনে হামলা চালানো হয়েছে।তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের গুরুত্ব কম করে দেখানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে সংঘাতটি ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমনকি বলেছেন, তিনি এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে চান না।

গত শুক্রবার ট্রাম্পও একই ধরনের মন্তব্য করে সংঘাতটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।তবে ইরানের কর্মকর্তারা এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট রোববার এবিসি’র ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে বলেন, ইরান ‘কোনোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা সম্ভব, সবই করছে।’ তিনি বলেন, ‘তারা জানে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাপ্তি আসন্ন। তাদের নৌবাহিনী শেষ হয়ে গেছে। তাদের বিমানবাহিনীও শেষ হয়ে গেছে। তারা ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code