

শাহাব উদ্দিন শাহিন, সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর মুলত ব্রিটিশ আমলে ১৯৪৪-১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন প্রতিষ্টার অন্যতম কারন ছিলো জাপানের আগ্রাসর রুখা। প্রথমে ছিলো অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্থান আমলে সিলেট বিমান বন্দর। পরে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায় সিলেটের কৃতিসন্তান জেনালের এম এ জি ওসমানীর নামুনুসারে করা হয়। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম এবং ৩য় বৃহত্তম আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর। ৩ নভেম্বর ২০০২ সালে কুয়েত থেকে সরাসরি সিলেট এ বিমান অবতরনের মধ্যে দিয়ে ২০০২ সালে আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে উন্নীত ও উদ্বোধন করা হয়। এটি দেশের উত্তর-পূর্ব কোণে সিলেট শহরের ৮কিঃমিঃ দূরে বড়শাল এলাকায় অবস্থিত। এই বিমান বন্দরে অধিকাংশ যাত্রীই প্রবাসী। সিলেট বিভাগের যারা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। এটি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত।
নামে আর্ন্তজাতিকঃ আর্ন্তজার্তিক হলেও নিয়মিত বিদেশী এয়ারলাইন্স ফ্লাইট গুলো নেই। দুবাই ভিত্তিক ফ্লাইট গুলো ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ঢাকা-সিলেট নিয়মিত চলাচল কারী বিমানঃ বিমান বাংলাদেশ, এয়ারঅ্যাস্ট্রা, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা, স্কাইএয়ার, ইজি ফ্লাই এক্সপ্রেস। যুক্তরাজ্য (লন্ডন হিথ্রো), দুবাই, আবুধাবি, দোহা, শারজাহ, সৌদী (জেদ্দা), সরসারি চলাচল সহ ঢাকা সিলেট, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার সরসরি চলাচল করে বিমান। সিলেট শিলচর চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালে কার্গো কার্যক্রম চালু হয়, ইউরোপে পোশাক প্রেরন করা হয়। বর্তমানে কার্গো সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯৬৪৬ ফুট। ২০১৮ সালে যাত্রী উঠা নামা করে ৫,৩৩,২০৮ জন।
দুর্ঘটনাঃ ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর কুয়াশার কারনে ধানক্ষেত্রে বিধ্বস্ত হয়। আহত হন ১৭ জন যাত্রী। ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর রানওয়ে ভেজা থাকায় খাদেঁ ছিটকে পরে। আহত হন ২ জন যাত্রী। পরিসংখ্যা বলছে এই মিানে বন্দরে দুর্ঘটনা কম হয়। যা এটি একটি ভালো দিক।
ভাড়াবেশীঃ এই বিমান বন্দরে যাত্রীরা বৈষম্য ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সিলেট বিভাগের যাত্রীরা। কাতার ও তার্কিশ বিমানে লন্ডন ঢাকা ভাড়া ৫/৬ শত পাউন্ড। আর বাংলাদেশ বিমানে সেখানে লন্ডন সিলেট ভাড়া ১ হাজার হতে ১৪ শত পাউন্ড। দ্বিগুন ভাড়া কেন? আরো আশ্চর্য্য বিষয় হচ্ছে লন্ডন থেকে বিমান সিলেট আসে। তারপর ঢাকা যায়। ঢাকা থেকে সিলেটের ভাড়া ২/৩ শত পাউন্ড বেশী। এটা রীতিমত সিলেটের যাত্রীদের সাথে বৈষম্য ও বিমাতা সুলভ আচরন। নামেই আর্ন্তজাতিক কেন? কেন করা হচ্ছে না সত্যিকারের আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ? এ প্রশ্ন গুলো সিলেটের যাত্রীদের। ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর কে সত্যিকারের আর্ন্তজাতিক মানের বিমান বন্দর করা হলে সিলেট বিভাগে অর্থনৈতিক অঞ্চলে গড়ে উঠবে। বিদেশী পর্যটন আগমন ঘটবে, এবং জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
প্রবাসীদের দাবীঃ নিয়মিত লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসা যাওয়া করেন লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাপোষ্ট পত্রিকার চেয়ারম্যান, কমিউনিটি নেতা শেখ মফিজুর রহমান ফারুক। তিনি বলেন সিলেট বিমান বন্দর সেবার দিক থেকে নয় কেবল নামে আর্ন্তজাতিক। নানা অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজন আরো অবকাঠামো নির্মান করে যাত্রী ও যাত্রীদের আগত আত্নীয় স্বজন, চালকদের জন্য সম্পূর্ন ফ্রিতে বসার ব্যবস্থা, শৌচাগার, নামাজ কক্ষ, মাতৃদুগ্ধ কক্ষ, বিশ্রামাগার স্থাপন। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেস এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেটের সাবেক সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করে আর্ন্তজাতিক সব ফ্লাইট চালু করা প্রয়োজন।
সম্ভাবনাঃ সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে দেশী বিদেশী বিমান চলাচল করার সুযোগ দিলে এভিয়েশন চার্জ, ল্যান্ডি চার্জ, পাকিং চার্জ, সহ বিভিন্ন খাতে অনেক রাজস্ব আদায় হতো। অপরদিকে সিলেটের প্রাকৃতিক সুন্দর্য্য যেমন পর্যটকদের আর্কষন করে। বিমান বন্দর যদি সঠিক ভাবে আর্ন্তজাতিক মানে পরিচালনা করতো, তা হলে সিলেটে প্রতি মাসে হাজার হাজার পর্যটক আসতেন বিমানে করে দেশ বিদেশ থেকে। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের যে সকল প্রবাসে রয়েছেন তারাও বছরে একাধিক বার দেশে আসার জন্য আগ্রহী হতেন, ফলে রাজস্ব আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলে বিনিযোগ বৃদ্ধি পেত।
উন্নয়নঃ বিমান বন্দরের উন্নয়সে বৃহত্ত সম্প্রসারন প্রকল্প ২০২০ আওতায় নতুন আর্ন্তজাতিক টার্মিনাল, কার্গো কমপ্লেক্স, কট্রোল টাওয়ার, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রোন ও আধুনিক সুবিধা বাস্তবায়নে ২৩০৯.৭৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে সংশোধিত বাজেট ২৭৮০.৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৭ সালে কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা। বর্তমানে কাজ চলছে ধীর গতিতে।