আসামে মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, মসজিদ ভাঙার অভিযোগ

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিয়ন্ত্রিত হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ব্যাপকভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এই বিশেষ অভিযানে শত শত হেক্টর বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে ৫০০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বড় একটি অংশই বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, রাজ্য প্রশাসন উন্নয়নের এক ‘রুদ্র রূপ’ প্রদর্শন করেছে। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু অধিকার ও ছাত্র সংগঠনগুলো বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলেছে।

আসামের সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের গোলাঘাট, হোজাই ও নগাঁও জেলায় অভিযান চালিয়ে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি সরকারি বনভূমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের সংরক্ষিত জমি রক্ষা এবং সেখানে গড়ে ওঠা অবৈধ নানা অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া ছিল এই যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

সবচেয়ে বড় সাঁড়াশি অভিযানটি চালানো হয় গত রবিবার নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। সেখানে এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি উদ্ধার করা হয়, যাতে একযোগে প্রায় ৫৫০টি পরিবার চরম সংকটে পড়ে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, তিনটি জেলা মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাস্তুচ্যুত পরিবারের মোট সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

Manual1 Ad Code

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গত আগস্ট মাসেই এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ফলে অভিযানের পূর্বেই প্রায় ৯০ শতাংশ কথিত দখলদার এলাকা ছেড়ে যান। পুরো কার্যক্রমটি আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা মেনেই পরিচালনা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

Manual5 Ad Code

তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন এবং ‘অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (আমসু) এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রায় ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করার পাশাপাশি একাধিক ধর্মীয় উপাসনালয় ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমসু সভাপতি জানান, লুতুমাই বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের বড় একটি অংশকে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকারই সাময়িকভাবে সেখানে থাকার সুযোগ ও পুনর্বাসন দিয়েছিল।

Manual1 Ad Code

সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার অজুহাতে মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা বানানো হচ্ছে। অথচ একই এলাকায় থাকা অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের এখনো কোনো আইনি নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আসামে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code