

শিমুল তাজবীর চৌধুরী (লন্ডন ) ঃ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে ১৬ টি দলের অংশগ্রহণে লন্ডনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা দৌড়। গত ২৭ অগাষ্ট ইষ্ট লন্ডনের রিগেটা সেন্টারের ডকসাইড রোডের ঐতিহাসীক টেমস নদীর তীরে এই নৌকা দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসের বুকে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা দৌড় উপভোগ করতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা পরিবার পরিজন নিয়ে উপস্থিত হোন টেমস নদীর তীরে। নতুন প্রজন্মসহ বাংলাদেশীরা আনন্দ উচ্ছাসে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা দৌড় উপভোগ করেন। টেমস নদীর পাদদেশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বয়সী বাংলাদেশী বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোর-ছাড়াও স্থানী বৃটিশরদেরও বাংলাদেশী এই ঐতিহ্যবাহী খেলা উপভোগ করতে দেখা যায়। নৌকা দৌড়ে অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন দলের খেলোযাড়রা নানা বাহারী পোষাক পরে নৃত্যে আর ভাটি বাংলার সঙ্গীতের মুর্ছনায় প্রবেশ করে টেমস নদীর তীরে। তাদের সমর্থকরাও নেচে গেয়ে উৎসাহিত করে খেলোয়ড়াদের। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে প্রতি বছর ন্যাশনাল নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো লন্ডনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা আর এর নাম দেওয়া হয়েছে নৌকা দৌড়। লন্ডন সিটি বিমান বন্দরের একেবারে পাদদেশে টেমস নদীতে অনুষ্ঠিত এই নৌকা দৌাড় বিমান বন্দরের যাত্রী আসন থেকেও অনেকে উপভোগ করেন। নৌকা দৌড় শুরু হওয়ার পুর্বে সকল দলের খেলোয়াড়দের ডাঙ্গায় দাড়িঁয়ে অনুশীলন করতেও দেখা যায়। এই নৌকা দৌড়ে বৃটিশ বাঙালী ললনাদের একটি দল অংশগ্রহণ করে। আর লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ব্যানারে যুক্তরাজ্যের বাংলা মিডিয়ার কর্মীরাও এই নৌকা দৌড়ে অংশ নেয়। এছাড়া নৌকা দৌড় উপলক্ষ্যে স্থাপন করা হয় খোলা মঞ্চ.যেখানে স্থানীয় শিল্পিদের সঙ্গীত পরিবশেন ছাড়াও আয়োজন করা হয় বাংলাদেশী নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা পরিবেশনা। পাশে ছিলো বাংলাদেমী নানা পণ্য ও দেশীয় খাবারের বেশ কটি ষ্টল। লন্ডন নৌকা দৌড়ে চ্যাম্পয়ন হয় টিম শাহজালাল এবং রানার্স আপ হয় সিলেট স্পোটিং ক্লাব। এছাড়া তৃতীয় স্থান অধিকারী হয় মামা ভাগ্নে নামে একটি দল। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করেন পুরস্কার বিতরণীতে আসা অতিথিরা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বদেশের কৃষ্টি,কালচার,ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে লন্ডনে নৌকা দৌড় আয়োজন করেছেন বলে জানান আয়োজকরা।