বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক আজ, অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual5 Ad Code

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিএস২১১ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) ‘রাষ্ট্রীয় শোক দিবস’ পালন করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার (১৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  এজন্য দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা রাখা হয়েছে অর্ধনমিত। এছাড়া আগামীকাল শুক্রবার মসজিদ মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। খবর- বাসসের।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’নজিবুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দিনব্যাপী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য শুক্রবার সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’মুখ্য সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে এ জাতীয় বিমান দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এয়ারলাইনস অপারেটরদের যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বিষয়ক নিরাপত্তা আইন অনুসরণ করার কথা বলেন তিনি।’নজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সার্বিকভাবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আরো দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য বড় একটি দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে দেশবাসীকে এ মুহূর্তে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।’

 

Manual7 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বিমানের যাত্রী, পাইলট ও ক্রু এবং পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তাকে ‘আমাদের মেধাবী সন্তান’ উল্লেখ করে তাঁদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন।

Manual8 Ad Code

নজিবুর রহমান বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া রোগীদের বাংলাদেশে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকায় দুর্ঘটনায় দগ্ধ নেপালি নাগরিকদের এদেশে চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।’

Manual4 Ad Code

নজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন, যা সিঙ্গাপুর থেকে প্রেরিত তাঁর ভিডিও বার্তায় প্রতিফলিত হয়েছে এবং তিনি বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।’

মুখ্য সচিব বলেন, ‘নেপাল থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

মুখ্যসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়কে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করে যৌথ ভাবে দুর্ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশের কর্তৃপক্ষের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করতে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘নিহতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একটি বিশেষজ্ঞ দল কাঠমান্ডু যাবে। তারা ডিএনএ পরীক্ষা করে নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে আসবে।’

Manual7 Ad Code

নজিবুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকে আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ থেকে একটি মেডিকেল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ দুজন গুরুতর আহত যাত্রীকে আরো ভালো চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে হতাহত যাত্রীদের আত্মীয়স্বজনদের বহনকারী একটি বিমান নেপালে পাঠানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। পরে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এতে বিমানের কমপক্ষে ৫১ জন আরোহী নিহত হয়। নজিবুর রহমান জানান, বৈঠকে বিমান দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code