শামীমার সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যুতে সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ সরকার

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট :: আইএস-এর জিহাদি উন্মাদনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়ায় যাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। শামীমার স্বজনদের অভিযোগ, ব্রিটেন শিশুটির নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আর লেবার পার্টি বলছে, একটি ‘দাম্ভিক ও অমানবিক’ সিদ্ধান্তের কারণে সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

Manual6 Ad Code

আইএস-এর জিহাদি উন্মাদনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিল শামীমা। জঙ্গি বিয়ে করে জিহাদি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যে প্রচারণা চালিয়েছিল আইএস,শামীমা তারই বলি হয়েছিল। নেদারল্যান্ডস থেকে সিরিয়ায় যাওয়া এক জঙ্গিকে বিয়ে করেছিল শামীমা। দুইবার গর্ভপাতের শিকার হওয়ার পর সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় সে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শামীমার ছেলের জন্মের কথা জানানো হয়। পরে পুত্রসন্তানের নাম রাখা হয় জেরাহ।

১৯ ফেব্রুয়ারি শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে যুক্তরাজ্য সরকার। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে তখনই বলেছিলেন,শামীমার নাগরিকত্ব বাতিল হলেও আইন অনুযায়ী তার সন্তান জেরাহ যুক্তরাজ্যের নাগরিক। জেরাহকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। তবে ফেরা হয়নি জেরাহর। শামীমার আইনজীবী মোহাম্মদ আকুঞ্জি শুক্রবার (৮ মার্চ) জানান, ‘আমাদের কাছে দৃঢ় কিন্তু অনিশ্চিত খবর আছে যে শামীমা বেগমের ছেলে মারা গেছে।’ চিকিৎসা সনদ অনুযায়ী নিউমোনিয়ার কারণে মারা গেছে জারাহ। তার বয়স হয়েছিল তিন সপ্তাহেরও কম। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা চলছে।

Manual8 Ad Code

কনজারভেটিভ পার্টির এমপি এবং সাবেক আইন মন্ত্রী ফিলিপ লি এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ‘নৈতিক দায়বোধের প্রতিফলন’ দেখাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, নীতিবোধকে এড়িয়ে এবং জনতোষণবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তার ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদদাতা কুইনটিন সামারভিল জানিয়েছেন, শামীমা যে আশ্রয় শিবিরে থাকেন সেখানকার অবস্থা ‘মোটামুটি ভয়াবহ’। সেখানে খাবার, কম্বল ও তাঁবুর সঙ্কট রয়েছে। ডেইলি-মেইলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক লারিসা ব্রাউন নিউজনাইট অনুষ্ঠানে বলেন, ক্যাম্পের ভেতর হিটিং বা গরম করার কোনোরকমের ব্যবস্থা নেই। রাতে তাপমাত্রা তিন কিংবা চার সেলসিয়াস অনুভূত হলেও তাঁবুর ভেতর বাচ্চাদের শরীর গরম রাখার মত কোনও চুলা ছিল না।

তিন মাসের মধ্যে ১০০-র বেশি মানুষ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পথে কিংবা পৌঁছানোর পরপরই মারা গেছে, এদের মধ্যে তিনভাগের দুইভাগের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

Manual7 Ad Code

সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির সভাপতি ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অপুষ্টির শিকার’ ১২ হাজার মানুষ আইএস-এর শাসন থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়ায় ক্যাম্পটিতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদেরকে।

সাবেক মেট্রোপলিটন পুলিশ চীফ সুপারিন্টেনডেন্ট এবং শামীমা বেগমের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ডাল বাবু বিবিসির নিউজ-নাইট অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমরা দেশ হিসেবে শিশুটিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হলাম’।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন যেকোনো শিশুর মৃত্যুই ‘দু:খজনক’। ওই মুখপাত্র বলেন, সরকার সিরিয়া ভ্রমণের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক করে আসছে। তিনি বলেন, ‘মানুষকে সন্ত্রাসবাদ এবং বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া থেকেই বিরত রাখতে যা কিছু করা সম্ভব সেসব আমরা চালিয়ে যাবো।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code