বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual1 Ad Code

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরো উন্নয়নে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বর্তমান সরকারের গৃহীত কর্মকাণ্ড যথাসময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ব্যবসা পরিচালনার সূচকে দুই অংকের ঘরে পৌঁছাবে।’

 

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কৃষি খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। কৃষি পণ্যের বহুমুখীকরণের উপর জোর দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ, এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেট স্থাপনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিযোগী সক্ষমতায় টিকে থাকার পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে কোন বিকল্প।’

Manual8 Ad Code

 

শনিবার রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ’ প্রেক্ষিত শীর্ষক সেমিনারে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

 

Manual8 Ad Code

এসময় বিজিএমইএএর সভাপতি ড. রুবানা হক, এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ‌্যাডভাইজার আনির চৌধুরী এবং প্রাণ আরএফএল এর চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেম এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

 

রুবানা হক সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দ্রুততর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমূহের আন্তঃসমন্বয় আরো বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পোষাক খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উন্নয়নের উপর জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পোষাক খাত ছাড়াও অন্যান্য রপ্তানিখাতের পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে।’

 

আনির চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। সরকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষিত যুবকদের আইওটি (ইন্টারনেট অফ থিংকস) এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।’

Manual3 Ad Code

 

অনুষ্ঠানে আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি শিল্পখাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতপূর্বক আমাদের অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

 

তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্দর সমূহের আধুনিকায়ন ও সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের উপর জোরারোপ করেন।

 

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি উল্লেখ করে বলেন, “দেশের সক্ষমতার উপর বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মত বিষয়সমূহ অনেকাংশে নির্ভর করে। গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯ সূচক অনুযায়ী পৃথিবীর ১৪১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যেখানে সিঙ্গাপুর প্রথম স্থানে রয়েছে এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ডুইং বিজনেস ইনডেক্স অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। ’

 

‘অবকাঠামো খাতে সরকার গৃহীত ফাস্ট ট্রাকের প্রকল্প সমূহের কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বেকারত্ব ও অদক্ষতা, বাণিজ্যিক নীতিমালার সংষ্কারের ধীরগতি, জলবায়ু পরিবর্তন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণের অপারগতা সর্বোপরি শিল্পখাতের অবকাঠামো স্বল্পতার বিষয়সমূহের ফলে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে প্রবল প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করেছে।”

 

Manual8 Ad Code

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিজেদের অবস্থান উন্নয়নে আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং এক্ষেত্রে ডুইং বিজনেস ইনডেক্স ও কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্সে উল্লেখজনক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ যদি প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষকরে চামড়া, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক, ফার্নিচার, পাট, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে আরো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code