

নওগাঁ :
নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বোদলা-সান্দিড়া খেয়াঘাটে ব্রিজ না থাকায় দু’পারের প্রায় ২৫ গ্রামের লাখো মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে। একটি ব্রিজের অভাবে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে সান্তাহার শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ওই স্থানে ব্রিজ নির্মান হলে একদিকে যেমন মানুষ দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে, অপরদিকে ব্যবসা বানিজ্যসহ ভাগ্য উন্নয়নের দ্বার খুলে যাবে।
জানা গেছে, রানীনগর উপজেলার রানীনগর-আবাদপুকুর মেইন রাস্তা থেকে বেলঘড়িয়া দিয়ে বোদলা থেকে রক্তদহ বিলের মধ্য দিয়ে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিরা-সান্তাহারের সাথে যুক্ত হয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে বোদলা, পালশা, বিলকৃষ্ণপুর, সরকাটিয়া, তেবারিয়াসহ বিল পারের ২৫ গ্রামের লাখো মানুষ চলাচল করে। কিন্তু রক্তদহ বিলের মধ্যে বোদলা-সান্দিড়া রাস্তার মাঝখানে খাল থাকায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। ফলে খেয়াঘাটে দু’পারের মানুষ এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে নৌকাতেই পারাপার হতে।
খরা মৌসুমে ওই স্থানে প্রায় হাঁটু সমান পানি থাকায় ওই সময় নৌকা চলে না। ফলে অনেকেই পানিতে নেমে পার হয়। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে এলাকার লাখো মানুষ নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা চাহিদা মেটানোর জন্য এলাকাবাসী নওগাঁ জেলা সদর, বগুড়ার সান্তাহার শহরের সাথে একমাত্র যোগাযোগের রাস্তা বোদলা-সান্দিড়া খেয়াঘাট। বর্ষা মৌসুম শরু হলেই এলাকাবাসীদের মাঝে নেমে আসে দুর্ভোগ। নির্বাচন এলেই এলাকার চেয়ারম্যান ও এমপি প্রার্থীরা উক্ত খেয়াঘাটে ব্রিজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছরেও ওই স্থানে ব্রীজ নির্মান হয়নি।
স্থানীয় বোদলা গ্রামের বাসিন্দা ছামছুর রহমান, হাফিজুর রহমান, নায়েব আলীসহ কয়েক বলেন, নির্বাচনের সময় সবাই প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে জনপ্রতিনিধিরা আর ঘুরে দেখেন না। একটি ব্রিজের অভাবে এপারের মানুষ ওপারে যেতে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এখানে শুধু একটি ব্রিজের কারনে দু’পারের মানুষের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধনও তৈরী করতে চায় না। বোদলা-সান্দিড়া পারঘাটে ব্রিজ নির্মান হলে ২৫ কিলোমিটার পথের দুরুত্ব যেমন কমবে, তেমনি দু’পারের মানুষের মাঝে সেতু বন্ধন তৈরী হবে। এতে ব্যবসা বানিজ্যসহ এলাকাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের দ্বার খুলে যাবে বলে তারা আশাবাদী। খেয়াঘাটের উপর ব্রিজ নির্মানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাইদুর রহমান মিঞা বলেন, ইতিমধ্যে বোদলা-সান্দিড়া পারঘাটের উপর একটি ব্রিজ নির্মানে অনুমোদন পাশ হয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ন করে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।