চল্লিশ দিনের কর্মসূচী আওতায় রাস্তাটি নির্মিত হলে কিছুটা চিত্র পাল্টাবে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

স্মৃতিবিন্দু জুরাছড়ি (রাঙ্গামাটি)
জুরাছড়ি উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরত্ব মৈদং ইউনিয়নের ফকিরাছড়ি বাজার। ঐ গ্রামে হেঁটে গিয়ে পৌঁছতে প্রায় একদিন লাগে,বর্তমানে মৈদং ইউপি চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা’র প্রচেষ্ঠায় জনগণের দূর্ভোগ ও যাতায়াতের সুবিধাত্বে চল্লিশ দিনের কর্মসূচী আওতায় কাচাঁ রাস্তা করে যাচ্ছেন। উক্ত এলাকার স্থানীয় জনগণ জানান,বিগত সময়ে অনেক চেয়ারম্যান করে গেছেন,কোন চেয়ারম্যান এই রকম মোটর বাইক চলাচল করার মত রাস্তা করে দিতে পারেনি,বর্তমান চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা অত্যন্ত উন্নয়ন মূখী হওয়াতে এখন কিছুতা হলেও মোটর বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে কাচাঁ রাস্তা নির্মাণ করে দিয়ে যাচ্ছে।
জুরাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান,এই রাস্তাটি অত্যন্ত জনগুরুত্ব পূর্ণ,এই রাস্তাটি দিয়ে জুরাছড়ি ইউনিয়নের কিছু অংশের জনগণ সহ দুমদুম্যা এবং মৈদং ইউনিয়নের জনগণ যাতায়াত করে থাকেন,রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে ঐ এলাকার জনসারণ অর্থনৈতিক ভাবে স্বালম্ভী হতে পারবে। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ইতিমধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্য থেকে ডিও লেটার নিয়ে জুরাছড়ি সদর থেকে শিলছড়ি বাজার এবং শিলছড়ি বাজার থেকে ফকিরাছড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাবর প্রকল্পটি আবেদন করা হয়েছে বলে জানান।তিনি অতিব আশা প্রকাশ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখহাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টির উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক,তাই এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
মৈদং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমা বলেন,আমার ইউনিয়নের জনগণ অধিকাংশ কৃষক কিন্তু দূঃখের বিষয় যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার জনগণ কৃষি উৎপাদন করে ও বাজারজাত করতে পারেননা,তাই সরকারের থেকে যে টুকু বাজেট বরাদ্ধ পাচ্ছি তা দিয়ে কিছুতা হলেও রাস্তাঘাট ত্বরানিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মৈদং এবং দুমদুম্যা ইউনিয়নের জনগণ এখনো অনেক পিছিয়ে,এই রাস্তাটি নির্মিত হলে অনেকটা আমরা শিক্ষা,কৃষি সহ অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হতে পারব এমন প্রত্যাশা করেন।
মোটর বাইক চালক রুপনন্দ চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকে জানান,আমরা কখনো ভাবিনি এই প্রত্যন্ত দূর্গম এলাকায় মোটর সাইকেল চালাতে পারবো,বর্তমানে আমরা ফকিরাছড়ি বাজার থেকে মৈদং মূখ পর্যন্ত মোটর বাইক দিয়ে যাতায়াত করতে পারছি,তাই বর্তমানে হাজাছড়ি গ্রামে একটি পিআইও ব্রিজ নির্মাণাধীন রয়েছে ঐ ব্রিজটির কাজ সম্পাদন হলে হাজাছড়ি সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় পর্যন্ত মোটর বাইক দিয়ে চলাচল করতে পারব।যে কোন গুরুত্ব পূর্ণ কাজে ফকিরাছড়ি বাজার থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত যাতায়াতের সহজ হবে।
সরেজ মিনে ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ কৃষক তাদের জমিতে তামাক চাষ করে যাচ্ছেন,একজন কৃষক নাম প্রকাশ না করা স্বর্থে বলেন,তামাক পরিবেশের ক্ষতি,স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতি আমরা জানি,তবুও আমাদের বাধ্য হয়ে চাষ করতে হচ্ছে। কারণ কি? জানতে চাইলে তিনি জানান,এখানে কৃষি দ্রব্যাদি উৎপাদন করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারজাত করা সম্ভব নয়,সব কিছু পচেঁ যায়,সরকার যদি যোগাযোগের পদ সুগম করে দেন তাহলে আমরা তামাক চাষ বাদ দিয়ে কৃষিদ্রব্য উৎপাদন করব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code