ওসমান পরিবারের নতুন চমক, আরেক এমপি

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual6 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: ওসমান পরিবারের- নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের চমকপ্রদ ইতিহাস রয়েছে। প্রগতির পক্ষে সব লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে নারায়ণগঞ্জে যে পরিবারটির উত্থান হয়েছিল সেই পরিবার থেকে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন তিন সদস্য। তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও জাপার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পারভীন ওসমান।

গত তিনটি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির দখলে। এবারের নির্বাচনে এই আসন থেকে লাঙ্গলের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছে ওসমান পরিবারে। সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এবং তার বড় ভাই প্রয়াত সংসদ নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান মনোনয়ন চান।

শেষ পর্যন্ত দেবর সেলিম মনোনয়ন পেলেও বঞ্চিত হন ভাবি পারভীন। তবে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বঞ্চিত করলেন না পারভীন ওসমানকেও। তাকে করা হয়েছে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের গোড়াপত্তন করেন সেলিম ও শামীম ওসমানের দাদা এম ওসমান আলী। ১৯২০ এর দশকে তিনি কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসেন। তার সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো, রাজনীতি, ব্যবসা, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ওসমান আলী তখন থেকেই নারায়ণগঞ্জে সুপরিচিত হয়ে উঠেন।

ওসমান আলী ১৯৩৮ সালে নিজ গ্রামে একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের তানজিম মুসাফিরখানা, রহমতুল্লাহ অডিটোরিয়াম ও গণপাঠাগার নির্মাণে তার অবদান ছিল।

এসব জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯৪০ সালে ‘খান সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির প্রতিবাদে তিনি ১৯৪৪ সালে উপাধি বর্জন করেন। ব্রিটিশদের উপাধি বর্জনের সাহসী সিদ্ধান্তের জন্যও সেসময় তিনি সমানভাবে প্রশংসিত হন।

লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হলে ওসমান আলী নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকে সংগঠিত করেন এবং বামপন্থী ও অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেন। ১৯৪৬ সালে নারায়ণগঞ্জে ‘ঝুলন যাত্রা’কে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হিন্দু ও মুসলমানদের সমঝোতায় আনতে তিনি ভূমিকা রাখেন।

Manual5 Ad Code

ওসমান আলী ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে (নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণ নির্বাচনী এলাকা) ঢাকার নবাব খাজা হাবিবুল্লাহকে পরাজিত করে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লিগের সভাপতি এবং ঢাকা জেলা মুসলিম লিগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লিগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকা জেলা মুসলিম লিগে ঢাকার নবাবদের সঙ্গে প্রগতিশীল গ্রুপের মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধে ওসমান আলী প্রগতিশীল গ্রুপকে সমর্থন করেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নারায়ণগঞ্জে গণসংবর্ধনা দেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন এম ওসমান আলী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সেসময়ের রাজনীতিবিদরা তাকে অত্যন্ত সমীহ করতেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল। এ জন্য তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৬২ সালের শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ওসমান আলী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাপিডিয়ায় এম ওসমান আলী সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তার সম্পাদনায় ত্রিশের দশকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সবুজ বাঙলা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

এ পত্রিকায় লিখতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মোহিতলাল মজুমদার, জসীমউদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন, বন্দে আলী মিয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা প্রমুখ। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ তিনি প্রয়াত হন।

বাবার পথ ধরেই রাজনীতিতে এসে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ওসমান আলীর বড় ছেলে একেএম সামসুজ্জোহা। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে নির্বচনে তিনি সাংসদ হন। বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতির ময়দানে থাকা সামসুজ্জোহা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। মৃত্যুর ২৯তম বার্ষিকীতে এসে ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

টক শোতে যাওয়ার নীতিমালা করছে বিএনপি, যা থাকছে…

বাংলাদেশে টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং টক শোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার জন্য দলীয় নেতাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে একটি গাইডলাইন তৈরির করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে এবং পরে কয়েকটি টেলিভিশনের আচরণ তাদের কাছে পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়েছে। যেখানে এমনকি অনুষ্ঠানের সঞ্চালকরাও একটি পক্ষ নিয়ে বিএনপিকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন বলে তাদের অভিযোগ। তাই টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতে দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে একটি গাইডলাইন তৈরির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী অনেক বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে টক-শো’র বিষয়টিও ছিল। বিভিন্ন টক-শো’তে যারা পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন বলে বলা হয়, তারা কতটা উপযুক্ত, তাদের প্রস্তুতি কেমন, কাদের সঙ্গে যাচ্ছেন, তারা তথ্য নির্ভর কথা বলছেন কি না – সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘অনেকে আছে সাবেক নেতা বা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু তারা আসলে হয়তো এখন আর বিএনপিকে প্রতিনিধিত্ব করেন না। কিছু টেলিভিশন আছে, যেগুলোর লক্ষ্য থাকে বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলক সমালোচনা করা। সেসব ক্ষেত্রে আমাদের যারা ওখানে যান, তাদের আরওসতর্ক, আরও গঠনমূলক এবং আরও তথ্য নির্ভর বক্তব্য নিয়েই সেখানে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘বিশেষ করে নির্বাচনের অনিয়মের নানা তথ্যগুলো সেখানে যেন যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়, সেই বিষয়ে নেতৃবৃন্দকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে, যারা এসব টকশো ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করবে এবং নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য যোগান দেবেন। দলটির নেতারা টকশোতে যাবার আগে প্রয়োজনে এই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে যেতে পারবেন।

Manual3 Ad Code

এই কমিটিতে আরও রয়েছেন- শামসুজ্জামান দুদু, আবদুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ এবং রুমিন ফারহানা। এই কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং যারা টক শোতে যাবেন, প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ দেবেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলছেন, ‘কিছু টেলিভিশন আছে যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপিকে টার্গেট করে থাকে। এগুলো যারা ফেস করতে পারবেন না, তারা যেন সেসব টেলিভিশনে না যান। যারা পারবেন, তারাই যেন যান। তবে কাউকে কোনো টেলিভিশন বা অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে বলা হয়নি।’

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, ‘যেহেতু আমাদের কথা কাজ বা প্রচারণা ঠিকভাবে নিউজে আনা যাচ্ছে না, তাই টক শো হচ্ছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রধান জায়গা। আমাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের সামান্য অংশই খবরে যায়, সব পেপারও সবাই পড়েন না। ফলে টক শো লাইভ অনুষ্ঠান বলে সেখানে বিশ্লেষণ করে আমরা তুলে ধরতে পারি।’

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘কিন্তু কিছু চ্যানেল আছে যাদের অতিথি বাছাই হয় একদিকে একপক্ষের কয়েকজন, অন্যদিকে আমাদের পক্ষ থেকে একজন অথবা দুর্বল একজন।

সেই সঙ্গে অনেক সঞ্চালকও ঠিক সঞ্চালক সুলভ আচরণ করেন না, একটা দলের পক্ষ হয়ে যান। সেজন্য এটা কিভাবে ট্যাকল করা যায়, সবাই যাওয়ার আগে যাতে বিষয়বস্তু জেনে-পড়াশোনা করে যান, দুর্বলতা থাকলে যেন এড়িয়ে যান, নিজের চেহারা দেখাতে গিয়ে যেন দলের ক্ষতি না করেন – এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা জানান, ‘যেসব বিষয়ে সাধারণত বিএনপিকে অভিযুক্ত করা হয়, সেসব বিষয়ে সবসময়েই দলের পক্ষ থেকে তথ্যপ্রমাণ প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলের নেতাদের বক্তব্য অভিন্ন হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দলটির নেতারা জানাচ্ছেন, দল থেকে যারা টক-শোতে যাবেন, কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাদের একটি তালিকা করা হবে। বিএনপির প্রেস কনফারেন্স, বক্তব্য তাদের ইমেইলে নিয়মিত জানিয়ে দেয়া হবে। আর যারা দলের পদে নেই, তাদের দলীয় পরিচয়ে টক-শো’তে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে।

এসব নীতিমালা দলটির নেতাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে দলটির পদে নেই, এমন ব্যক্তিরাও চাইলে এই কমিটির সাহায্য নিতে পারবেন।

Manual1 Ad Code

টেলিভিশনের বিভিন্ন টক-শো’তে আরও অনেকের মতো বিএনপিকে উপস্থাপন করে থাকেন ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ। তিনি বলছেন, ‘গতকাল দল থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু এই মুহূর্তে সংবাদ মাধ্যম যেহেতু অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং আইনের জালে আমরা বন্দী, সেই বিবেচনায় আমাদের বলা হয়েছে যেন আমরা দলের পক্ষ থেকে যথাযথ সঠিক তথ্য আমরা উপস্থাপন করি।’

ডা. সাখাওয়াৎ আরও বলেন, ‘যারা দলের হয়ে বা দলের পক্ষ থেকে টক-শো’তে যান, তারা সবাই যেন লেখাপড়া করে জেনে সঠিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে যান এবং ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারেন।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code