নাব্যতা সংকটঃ রাঙ্গাবালীর খড়¯্রােতা দারছিড়া এখন শীর্ন খাল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রু ২০২১ ০৮:০২

মোঃ সাব্বির হোসাইন,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
এক সময়ের ক্ষর¯্রােতা নদী দারছিড়া। এপাড় থেকে ওপাড় পাড়ি দিতে গিয়ে ভেঙেছে বহু নৌকার দার (বৈঠা)। দার ভাঙার কারনে প্রথমে এর নাম হয় দারভাঙ্গা। পরে যা দারছিড়া নদী নামে পরিচিতি পায়। তবে সেই ক্ষিপ্ত খর¯্র্েরাতা দারছিড়া এখন নেই বললেই চলে। আছে শুধু সেই ভয়নক নামটি মাত্র। নদী বলতে যা বোঝায় তার কোন বৈশিষ্টই এখন আর দারছিড়ার নেই। অপরিকল্পিত কর্মকান্ডে ও জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিনিয়ত নিঃশেষে প্রান হাড়াচ্ছে নদীটি ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে দারছিড়া ও দাড়ছিড়া নদীর ওপর নির্ভরশীল শত শত মানুষের কষ্ট। পরিকল্পনাবিহীন বেড়িবাঁধ, কালভার্ট ও মাছের ঘের, নদী ভরাট করে বসতি ইত্যাদি দিন দিন গিলে খাচ্ছে দাড়ছিড়াকে। এই তিন সমস্যাগুলোর কারনে দিন ধুঁকে ধুঁকে মরছে দারছিড়া নদীটি। বিশেষজ্ঞদেও মতে, মানবসৃষ্ট সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনেরও প্রভাব।
নদীটির অবস্থান পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের কোলঘেঁষে । খোজ নালে জানা যায়, এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ একমাত্র মাধ্যম ছিল এই । শুধু যোগাযোগই নয়, মানুষের জীবিকা নির্বাহের জন্যও গুরুত্বপূর্ন ভুমিকায় ছিল এ নদী। ঐসব এলাকার বেশির ভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন এ দারছিড়ায় মাছ ধরে। নদীর সেই যৌবনে ভাটা লাগার সাথে শুরু হয় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হলেও এখনো নদীর সাথেই জড়িয়ে আছে ঐ অঞ্চলের অনেকের জীবন-জীবিকা। কারণ এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ কওে মাছ ধরে।
দেখা গেছে, প্রায় ৮ কিলোমিটার নদীতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করেছে দুটি অপরিকল্পিত বাধ। যা দারছিড়ার সবথেকে বড়ো বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। যার একটি বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন-গাব্বুনিয়া বেড়িবাঁধ এবং অপরপ্রান্তে মধুখালী-চরগঙ্গায় আরেকটি বেড়িবাঁধ। এতে নদীতে দিন দিন পলিমাটি জমে এক দিকে দেকা দিয়েছে নাব্যতা সকমে যাচ্ছে নদীর প্রশস্ততা। শুধু তাই নয়, মৌডুবি ইউনিয়নের মাতবরকান্দা থেকে জাহাজমারা স্লুইসগেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর অংশটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে। যেই নদীতে এক থেকে দেড়শ’ ফুট গভীর পানি ছিল সেই নদী এখন হেঁটে পার হওয়া যায়। পুরো নদীতে এখন পলি জমে অসংখ্য ডুবোচর ও মারাত্মক নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন-গাব্বুনিয়া ও চরগঙ্গা-মধুখালী দু’টি বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া গ্রামের চারুশিল্পী শাহ আলম বলেন, বেড়িবাঁধ দু’টি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা তখনই বলেছিলাম যে, চশমার ফ্রেমের মতো করে বাঁধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হোক।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাতবরকান্দা থেকে জাহাজমারা স্লুইসগেট পর্যন্ত নদীটি এখন প্রভাবশালীদের দখলে । এক যুগের ব্যবধানে নদীকে কব্জা করে যে যার মতো কমপক্ষে ১৫টি মাছের ঘের করেছে এ নদীর বুকে। যেখানে শুধুমাত্র পানি থই থই করত সেখানে এখন আশাবাড়িয়া নামক একটি গ্রামও হয়ে গেছে। ঘেরের মাছ পাহারা দিতেই মুলত গ্রামটিতে মানুষের বসবাস। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয় নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টারের (ভার্ক) উপজেলা সমন্বয়কারী মোহসিন তালুকদার বলেন, এক সময়ের খরস্রোতা দারছিড়া নদী এখন মৃতপ্রায়। নদীটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অগণিত মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্মাণ করত। সেসব মানুষের পেশা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানে প্রভাব পড়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মৃতপ্রায় নদীগুলো খনন করা উচিত। তিনি আরো বলেন, মানবসৃষ্ট সমস্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগস্থ হলে নদীতে পলি জমে ডুবোচর ও নাব্যতা সঙ্কট সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, নদী মাতৃক বাংলাদেশে নদী টিকিয়ে রাখতে হবে। নদী রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দারছিড়া নদী রক্ষায় সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি জানান

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •