পাহাড়ে বেড়েছে পানির সংকট

প্রকাশিত:সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১ ০৭:০৩

পাহাড়ে বেড়েছে পানির সংকট

 

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়েছে সুপেয় পানির সংকট। প্রতি বছর গ্রীষ্মের এ সময়ে পাহাড়ে পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। এসময় শুকিয়ে যায় পাহাড়ি ছড়া,ঝরনা, খাল-বিল। এর প্রভাব পড়েছে রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ে বসবাসরত অধিকাংশ পাহাড়িরা পায়নি নলকূল কিংবা রিংওয়েলের কোনো সুবিধা। তাই বাধ্য হয়ে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা ও মাটির গর্ত থেকে সংগ্রহ করতে হয় প্রয়োজনীয় পানি। কিন্তু বর্তমানে সেসব ঝিরি-ঝরনা ও শুকিয়ে গেছে। যার কারনে পাহাড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। তবে অনেকে মনে করেন, পাহাড়ে নির্বিচারে বন উজার করার কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে ঝিরি-ঝরনার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে পানীয় জলের সমস্যা বেড়েছে দ্বিগণ। দুর্গম এলকার মধ্যে রাঙ্গামাটির বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর, বিলাইছড়িসহ সদর উপজেলার কয়েকটি দুর্গম এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট।

বরকল উপজেলার ৫ নং বড় হরিণা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের শুকনাছড়ি ও পার্শ্ববর্তী ভূষণছড়া গ্রামেও দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। শুকনাছড়ি গ্রামে প্রায় ২৫০ পরিবারের ১৫০০ মানুষের বসবাস। অধিকাংশ মানুষ মাটি কুড়ে পানি সংগ্রহ করে। গ্রীষ্মকাল এলে পাহাড়ের ঝিরি-ঝরনা ও মাটির গর্তেও মেলে না সুপেয় পানির ব্যবস্থা। দীর্ঘ বছর ধরে জীবন সংগ্রাম করেও মেলেনি সুপেয় পানির ব্যবস্থা। অনেকের অভিযোগ, সরকারের কোনো আগ্রহ না থাকাতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাহাড়ি জনপদের মানুষ।

শুকনাছড়ি গ্রামের এলিয়া চাকমা বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে পানির সংকট দেখা দেয়। এক ঘন্টা পথ হেটে সংগ্রহ করতে হয় খাবারের পানি। তবুও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবারের পানি পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে পাহাড়ি আদিবাসীদের অন্যতম বিঝু উৎসবের কাছাকাছি সময়ে সুপেয় পানির সমস্যা দেখা দেয়। এখানে নলকূপ ও রিংওয়েল বসিয়ে পানি পাওয়া খুবই কঠিন। পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা থেকে পানির পাইপ দিয়ে গ্রামে পানির ব্যবস্থা করা যায়।

এবিষয়ে সমাজকর্মী দীপেন চাকমা বলেন, পানির পাইপ প্রজেক্টের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি পৌঁছানো সম্ভব। শুকনাছড়ি গ্রামবাসিদের মাঝে সুপেয় পানি পৌঁছিয়ে দিতে পাইপ লাইনের একটি প্রজেক্টের উদ্যোগ নিয়েছি। যা খরচ হতে পারে আনুমানিক এক লাখ দশ হাজার টাকার মত। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সরকারি প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে তাহলে ১৫০০ মানুষের সুপেয় পানির সংকট সমাধান কঠিন কিছু নয়।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের ছাক্রাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা নিলা চাকমা বলেন, সদর উপজেলা হলেও ছাক্রাছড়ি গ্রাম দুর্গম এলাকা। এখানে নেটওয়ার্ক পর্যন্ত ভালো করে পাওয়া যায় না। এই গ্রামে সুপেয় পানির সমস্যা হচ্ছে প্রধান। এ গ্রামে প্রায় ৩৫-৩৮ পরিবারের ৪০০ মানুষের বসবাস। একটি রিংওয়েল থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করে থাকে পুরো গ্রামের মানুষ। যা এসময়ে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরে নলকূপের জন্য এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে তবুও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

সদর উপজেলার ৫ নং বন্দুক ভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান বরুণ কান্তি চাকমা বলেন, ইউনিয়নের মধ্যে দুর্গম এলাকাতে টিউবওয়েব স্থাপন করলেও তেমন সুফল পাওয়া যায় না। তাই টিউবওয়েব গুলো ইউনিয়নের মধ্যে পানি পাওয়া যায় এমন এলাকাতে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দুর্গম এলকাতে রিংওয়েলের কোনো বরাদ্ধ না থাকাতে জনগনের চাহিদা অনুযায়ী পানির সুব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না।

রাঙ্গামাটি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিবছর এ সময়ে সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে প্রতিবছর ইউপি চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে গভীর নলকূপ ও রিংওয়েল স্থাপনে ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। পাহাড়ি এলাকার মাটি পাথর হওয়াতে যেকোনো স্থানে নলকূপ স্থাপন করা সহজ হয় না। তাই মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনেক সময় নলকূপ স্থাপন করা হয়।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •