

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার আশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এমন অবস্থানের কথা জানায় সংস্থাটির প্রতিনিধি দল। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
ইসির সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি, গণতান্ত্রিক, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখব। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তাঁর দলের সঙ্গে আজকে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে উন্মুক্ত ও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।’
এদিকে ইসির বক্তব্য ইইউ প্রতিনিধি দল বুঝতে পেরেছেন উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমরা আমাদের কনস্টিটিউশনাল যে অবলিগেশন, একটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে যে আমরা আইনত এবং সাংবিধানিকভাবে বাধ্য, সেটা আমরা খুব স্পষ্ট করে তাঁদের বুঝিয়েছি। আগেও বুঝিয়েছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের যে এই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা এটা তাঁরা বুঝতে পেরেছেন।’
সিইসি আরও বলেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হেড অব দ্যা ডেলিগেশন চার্লস হোয়াইটলি এবং ইইউ ডেলিগেশন এর আগেও একাধিকবার এসেছেন। সহসাই তাঁদের একটি এক্সপার্ট টিম আসবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এক্সপার্ট অবজারভার টিমের চারজন এরই মধ্যে এসে গেছেন।’
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে ইসি কাজ করছে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমাদের প্রস্তুতিটা অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এটা তাঁরা জানতেন না। তাঁরা আগেও এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের কী কী অগ্রগতি হয়েছে, সেই অগ্রগতিগুলো আমরা জানিয়েছি। আগের মতো স্পষ্ট করে বলেছি, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা তাঁদের জানিয়েছি, আমাদের কমিশনাররা গত দু সপ্তাহ ধরে বাইরে বাইরে ঘুরেছেন এবং তাঁরা জনগণ ও প্রশাসনকে এ বিষয়গুলো অবহিত করেছেন। যাতে প্রশাসন স্থানীয়ভাবে তাঁদের সব শক্তিকে সমন্বিত করে, যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হয়।’
রাজনৈতিক মতবিরোধে ইসি জড়াতে পারে না জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আর পলিটিক্যাল সাইটটি আমরা বলেছি। রাজনৈতিক অঙ্গনে যদি কোনো মতবিরোধ থাকে, কোনো বিভেদ থাকে, কোনো বিভাজন থাকে, সেখানে কোনোভাবেই আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। আমরা সেখানে জড়িয়ে যেতে পারি না।’
চার্লস হোয়াইটলির নেতৃত্বে বৈঠকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিইসির সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।