অধিনায়কত্বকে কখনোই বড়ো করে দেখিনি’

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual3 Ad Code

এ সিরিজের আগেই বোর্ড সভাপতি একবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটা কি বোর্ড আপনাকে নিয়ে দিল না আপনি নিলেন?

না, সিদ্ধান্তটা আমিই নিয়েছি।

আপনি কারো নাম বলবেন যে আপনার দায়িত্বটা বয়ে নিয়ে যেতে পারে?

Manual7 Ad Code

কারো নাম বলা তো কঠিন। অবশ্যই এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তবে সিনিয়র যারা আছে, সাকিব তো এখন বাইরে, সিনিয়র আরো যে তিন জন আছে, তারা কেউ…। আর প্রক্রিয়াটা কি আমি জানি না, মানে সাকিব আসার পরে কি হবে। এখন থেকে প্রক্রিয়াটা কাউকে দিয়ে শুরু হবে কি না।

Manual5 Ad Code

কতটা কঠিন ছিল অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া?

দেখেন অধিনায়কত্ব জিনিসটাকে কখনোই আমি এতটা গুরুত্বের জায়গায় আনিনি। সবসময় গর্ববোধ করি যে আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলি বা খেলেছি। অধিনায়কত্বটা আমাকে বিসিবি সুযোগ দিয়েছে, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কখনো হয়েছে, কখনো হয়নি। বাট সিদ্ধান্ত তো নিতেই হবে। সামনে বিশ্বকাপ আসছে ২০২৩, যেহেতু সবাই কথা বলছে আমাদের নেক্সট পরিকল্পনা করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় এটা নতুন কেউ আসার রাইট টাইম। সে টিমকে এখন থেকেই গুছিয়ে নিক। এবং আমি আশা করব যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটায় যেন স্থির থাকে। এখনকার অধিনায়ক যেন ২০২৩ বিশ্বকাপের অধিনায়ক হয়।

অধিনায়ত্ব ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে?

আমার ক্যারিয়ারটাই তো অনেক আগে শেষ হয়ে যেতে পারত। যতটুকু পেয়েছি আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া। অনেক অপ্রাপ্তি আছে, কিন্তু সেটাও দিন শেষে আমার কাছে প্রাপ্তি। কারণ একটা ফ্লোতে কখনোই জীবন চলে না। ভালো-খারাপের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও ওটাই হয়েছে। তবে সত্যি বলতে বলব যে আমি এই দায়িত্বটাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে পালনের চেষ্টা করেছি।

সাকিব না ফেরা পর্যন্ত আপনাকে রেখে দেওয়ার একটা কথা চলছিল….

না, আমার সঙ্গে এরকম আলোচনা হয়নি আসলে। আমার কাছে মনে হয় এত আলোচনায় যাওয়ার আমার দরকারও ছিল না। আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই ঠিক আছে।

Manual1 Ad Code

যতদিন না সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আসছেন ততদিন কি তরুণ কাউকে দায়িত্বটা দিয়ে দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন?

আমার ব্যক্তিগত মতামত যদি চান তাহলে অনেকটা কঠোর হতে পারে। আমি আগেও একদিন বলেছিলাম একজন তরুণ খেলোয়াড় যখন বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে নামে তখন সেটাই তার জন্য অনেক বড়ো চাপ। আগের মতো ক্রিকেট এখন আর নেই। মানুষ তাকিয়ে থাকে, মিডিয়া তাকিয়ে থাকে। ক্যামেরা থাকে। পারফরম কেমন করছে। এত কিছুর ওপর সে ক্যাপ্টেন্সি করবে।

নেতৃত্ব পাওয়ার পর আপনার জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটা ছিল বলে মনে হয়?

Manual3 Ad Code

সবচেয়ে কষ্টের ছিল তখন যখন ইন্ডিয়ার সঙ্গে ১ রানে হারলাম। ওয়ার্ল্ড কাপে। সেই রাতটা আমি না শুধু আমাদের পুরো দলের জন্য বীভত্স ছিল। আমরা সবাই হোটেলে এসে করিডোরে বসে ছিলাম। ক্যাপ্টেন হিসেবে খেলোয়াড়দের দেখে খুবই খারাপ লাগছিল। বাংলাদেশের যে কোনো ম্যাচে হারাই অধিনায়কের জন্য কঠিন সময়। ব্যক্তিগতভাবে বলব প্রত্যেকটা হারই আমার জন্য কঠিন ছিল।

২০১৯ বিশ্বকাপ থেকে এই পর্যন্ত যাত্রাটা কেমন ছিল?

চ্যালেঞ্জটা অবশ্যই কঠিন। কঠিন, অবশ্যই কঠিন। কিন্তু আমি এটাকে ব্যক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি। কঠিন সময় যেতে পারে, তার চেয়েও কঠিন সময় আসতে পারে। গিভ আপ করা একটা জিনিস আর না করা একটা জিনিস।

ক্রিকেটে কী কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান খেলা ছাড়ার পরও?

আমি সবসময়ই বলি আমি যা আজ যা কিছু তা সবকিছু ক্রিকেট দিয়ে। ক্রিকেট খেলা যদি শেষ না করতাম তাহলে মাছের ব্যবসা করতে পারতাম। আমি যা কিছু হয়েছি এই ক্রিকেট দিয়েই হয়েছি এবং সামনে আমার যত পরিকল্পনা অবশ্যই তার প্রধান ক্রিকেট। অবশ্যই আমাকে আমার এলাকার যা কাজ আছে করতে হবে। আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত আমাকে এটা করতে হবে। এখন থেকে অবশ্যই আমি পিছু সরব না। আর ক্রিকেটটা তো আমার রক্তের ভেতরে। যদি খেলোয়াড়রা কখনো ব্যক্তিগতভাবে মনে করে আমাকে যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময় আমাকে প্রয়োজন অবশ্যই আমি থাকব। আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code