অপ্রাসঙ্গিক সিপিএম

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual1 Ad Code

সাউথ এশিয়া ডেস্ক: যতদিন যাচ্ছে ভারতের জনগণের মন থেকে মুছে যাচ্ছে সিপিএম, তা বারবার প্রমাণ হচ্ছে। শুক্রবার ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিকের দাবিদার সিপিএম দেশের চারটি উপনির্বাচনে কোনও আসনে জয় পায়নি। দুটি আসনে জামানত হারিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। অপরদিকে, ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে লড়াইয়ে মোট ৭টির মধ্যে বিজেপি তিনটি আসনে জয়ী হয়ে এগিয়ে গেলো। আর উপনির্বাচন থেকে কংগ্রেসের ১, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ১, তৃণমূল কংগ্রেস ১ আর সমাজবাদী পার্টি একটি আসন পেয়েছে।

Manual2 Ad Code

ত্রিপুরায় বিজেপির কাছে ক্ষমতাচ্যুত হলেও বক্সনগর ও ধনপুর আসনে শক্ত ঘাঁটি ছিল সিপিএমের। কিন্তু নির্বাচনি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বক্সনগর আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে সিপিএমের প্রার্থীর। অন্যদিকে, হাতছাড়া হয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কেন্দ্র ধনপুরও। মুসলিম অধ্যুষিত বক্সনগরে জেতা আসনটি এবার শুধু সিপিএম বিপুল ভোটে হারেনি, জামানতও হারিয়েছে। এখানে বিজেপির তফাজ্জেল হোসেন পেয়েছেন ৩৪ হাজার ১৪৬, সিপিএমের মীজান হোসেন মাত্র ৩ হাজার ৯০৯ ভোট। সিপিএমের প্রার্থী এখানে ৩০ হাজার ২৩৭ ভোটে হেরেছেন। চলতি বছরের প্রথমদিকে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে সিপিএমের ভোট কমেছিল ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এবার তা কমেছে ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। অপর দিকে, ধনপুর আসনে বিজেপির বিন্দু দেবনাথ ৩০ হাজার ১৭ আর সিপিএমের কৌশিক চন্দ মাত্র ১১ হাজার১৪৬ ভোট পেয়েছেন। এখানে সিপিএম হেরেছে ১৮ হাজার ৮৭১ ভোটে। বিধানসভা ভোটে এখানে সিপিএমের ভোট কমেছিল ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। এবার কমেছে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।

Manual8 Ad Code

কেরালায় ক্ষমতায় থাকলেও পুথুপ্পলি বিধানসভা আসন এবারও কংগ্রেসের থেকে সিপিএম ছিনিয়ে নিতে পারেনি। দিল্লিতে জোট হলেও এখানে কুস্তি হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দুই শরিক কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে। কংগ্রেস প্রার্থী চ্যান্ডি উমান ৮০ হাজার ১৪৪ আর সিপিএম প্রার্থী জ্যাক সি টমাস ৪২ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়েছেন। কংগ্রেস এখানে ৩৭ হাজার ৭১৯ ভোটে সিপিএমকে হারিয়েছে। ২০২১ সালে এখানে সিপিএমের ভোট বেড়েছিল ৮দশমিক ২ শতাংশ এবার ভোট কমেছে ৮দশমিক ৭৩ শতাংশ।

পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সিপিএমের কঙ্কালসার চেহারাটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেছে। ধূপগুড়ি আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে সিপিএম। অবস্থা এমন দাঁড়ায় কংগ্রেস সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী তথা সাবেক শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র রায় ভোট গণনা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও ফলাফল হতাশাজনক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। ধুপগুড়ির গণনা শেষে দেখা গেছে, সিপিএম প্রার্থী মাত্র ১৩ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়েছেন। জয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এখানে সিপিএমের ব্যবধান ৮৩ হাজার ৮৫৫ ভোট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম এখানে মাত্র ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার দেখা যাচ্ছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট তারা বাড়াতে বেড়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএম যে চূড়ান্ত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে তা উঠে এসেছে উপনির্বাচনের ফলে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code