অস্ট্রেলিয়ার বুকে একখণ্ড বাংলাদেশ

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual7 Ad Code

ককিংটন গ্রিন গার্ডেনস অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড এবং অনেক স্থানীয় পর্যটনশিল্প পুরস্কার বিজয়ী এ বাগান ১৯৭৯ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক এই বাগান পরিদর্শন করেন।

 

 

 

ডাগ সারাহ ও ব্রেন্ডা পরিবারের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তাঁদের সুযোগ্য পুত্র মার্ক এর হাল ধরেছেন।

 

Manual4 Ad Code

এই বাগানের মূল আকর্ষণ সূক্ষ্মভাবে কারুকৃত ক্ষুদ্র ভবনগুলোর আকর্ষণীয় প্রদর্শন, ক্ষুদ্র বাষ্প ট্রেনের যাত্রা ও গোলাপ ঘর ইত্যাদি।

 

অস্ট্রেলিয়া তার বহু সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। ককিংটন গ্রিনের আন্তর্জাতিক অংশ এই সংস্কৃতিকে সত্যিকার অর্থে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরে।

 

বাগানের একটি অংশে ৩১টি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষুদ্র সংস্করণ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে আছে সিরিয়ার Triumphal Arch Palmyra (Tudmur), তুরস্কের Leander’s Tower (KIZ KULESI), মেক্সিকোর Tenochtitlan Aztec Temple, ভারতের দিল্লির দ্য রেড ফোর্ট ও লাহোর গেট ইত্যাদি।

 

 

বাংলাদেশের কোনো স্থাপনা ককিংটন গ্রিনের আন্তর্জাতিক অংশে ছিল না। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষুদ্র সংস্করণ এখানে স্থান পেয়েছে।

 

Manual8 Ad Code

ককিংটন গ্রিনের আন্তর্জাতিক অংশে এ স্থাপনা করা হয়েছে ক্যানবেরার লেটস ওয়ার্ক ফর বাংলাদেশের সভাপতি শামসুদ্দীন শাফির নেতৃত্বে।

 

২০১৭ সালে শামসুদ্দীন শাফি যোগাযোগ শুরু করেন কীভাবে ককিংটন গ্রিনের আন্তর্জাতিক অংশে বাংলাদেশের বিখ্যাত স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। তিনি প্রথমে আলাপ করেন বাগানের মহাব্যবস্থাপক মার্ক সারাহর সঙ্গে। মার্ক তাঁকে জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাত্র দুটি প্লট খালি আছে। কিছু করতে হলে শিগগিরই করতে হবে।

 

এরপর শামসুদ্দীন শাফি যোগাযোগ করেন বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে। ই–মেইলে তিনি মন্ত্রীকে ককিংটন গ্রিন গার্ডেনসের ইতিহাস ও পর্যটন খাতে এর অবদান উল্লেখ করে বলেন, এর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ৩১টি দেশের স্থাপনা কীভাবে তাদের দেশ এবং কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে বাগানে আগত পর্যটকদের কাছে।

 

Manual7 Ad Code

ই–মেইল পাঠানোর দুই সপ্তাহের মাথায় মন্ত্রণালয় থেকে ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশনকে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলে।

 

Manual6 Ad Code

হাইকমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বাংলাদেশের কোনো স্থাপনা ককিংটন গ্রিন গার্ডেনসে নির্মাণ করলে তা অবশ্যই দেশের ভাবমূর্তি অস্ট্রেলিয়াতে উজ্জ্বল করতে সহায়ক হবে। যেহেতু এই বাগানটি একটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ, তাই বাংলাদেশ তার কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে পর্যটকদের কাছে বেশ ভালোভাবেই তুলে ধরবে।

 

পরবর্তী সময়ে শামসুদ্দীন শাফি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে আলাপ করেন। আলোচনায় সাব্যস্ত হয় সংসদ ভবন নির্মাণের। শামসুদ্দীন শাফি পরে অস্ট্রেলিয়া ফিরে এসে ককিংটন গ্রিন গার্ডেনস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করেন এই ভবন নির্মাণের।

 

সংসদ ভবনের নকশা ককিংটন গ্রিন গার্ডেনসকে দেওয়া হলে তারা এর নির্মাণের ব্যয়ের একটি হিসাব দেয়। যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে এর নির্মাণ শুরু হয়ে শেষ হয় এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। বর্তমানে বাংলাদেশ সংসদ ভবন সগৌরবে স্থান করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ককিংটন গ্রিন গার্ডেনসে।

 

ককিংটন গ্রিন গার্ডেনস মহাসমারোহে তাদের ৪০ বছর পূর্তি আয়োজন করে ৩ নভেম্বর। ওই দিন বাগানটি সর্বসাধারণের জন্য বিনা মূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়। কয়েক শ পর্যটক ওই দিন বাগান এবং বাংলাদেশের জাতীয় গৌরব সংসদ ভবন প্রথমবার দেখেন। এ স্থাপনা বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে অস্ট্রেলীয়দের কাছে।

 

ককিংটন গ্রিন গার্ডেনস তাদের ওয়েবসাইটে এ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

 

বাংলাদেশ সংসদ ভবন এখন সগৌরবে ক্যানবেরার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ককিংটন গ্রিন গার্ডেনসে দেশি–বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code