অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে ইসলামোফোবিয়া বেশিরভাগ ঘটনাই অপ্রকাশিত

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ৮৫%-এর বেশি ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত ঘটনা অপ্রকাশিতই থেকে যায়। যে ঘটনাগুলো সরাসরি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়নি, কিন্তু মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদের অংশ, যেমনÑ অনলাইনে ঘৃণামূলক মন্তব্য, মুসলিম সংস্থাগুলোতে পাঠানো ইমেইল, শত্রুতাপূর্ণ ফোন কল এবং ‘অমানবিক মিডিয়া ভাষ্য’-এর মতো ঘটনাও বেড়েছে। ভিক্টোরিয়া ইসলামিক কাউন্সিলের (আইসিভি) নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। আইসিভি সতর্ক করেছে যে, ভুক্তভোগীর প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত প্রকাশিত রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি। শনিবার মেলবোর্নে ইসলামোফোবিয়া বিষয়ক তাদের প্রথম সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিভি। সেখানে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, ধর্মীয় নেতা এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ৮৫%-এর বেশি ইসলামোফোবিয়া সংক্রান্ত ঘটনা অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কাউন্সিল ২০২১ সাল থেকে ইসলামোফোবিয়ার শিকার হওয়া মানুষের কাছ থেকে ৯৬টি ব্যক্তিগত ঘটনার প্রতিবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি প্রতিবেদন এসেছে কেবল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে। বেশিরভাগ প্রতিবেদনে মৌখিক হয়রানি বা উপহাসের কথা বলা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য। কাউন্সিল আরো জানিয়েছে, যে ঘটনাগুলো সরাসরি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়নি, কিন্তু মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদের অংশ, যেমনÑ অনলাইনে ঘৃণামূলক মন্তব্য, মুসলিম সংস্থাগুলোতে পাঠানো ইমেইল, শত্রুতাপূর্ণ ফোন কল এবং ‘অমানবিক মিডিয়া ভাষ্য’-এর মতো ঘটনাও বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এমন ৩ হাজার ২৫৪টি ঘটনার কথা তারা জানিয়েছে। কাউন্সিল বলেছে, অনেক মুসলিম ইসলামোফোবিয়ার শিকার হওয়ার পরও রিপোর্ট করেন না। কারণ তাদের ভয় থাকে যে, এসব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেয়া হবে না।

Manual2 Ad Code

এছাড়াও পুলিশ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিও তাদের এক ধরনের অবিশ্বাস রয়েছে। আইসিভির মতে, প্রতিবেদন না করার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সমস্যার ব্যাপকতা অস্বীকার করা সহজ হয়ে যায়। এর অর্থ হলো অনেক ভুক্তভোগী তাদের প্রাপ্য সমর্থন, স্বীকৃতি বা বিচার পান না। ‘অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া’ নামের একটি উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি) দ্বারা পরিচালিত হবে। এটি ইসলামোফোবিয়ার শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সহায়তা হটলাইন এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে অর্থায়ন করবে, যাতে কর্তৃপক্ষ এবং সম্প্রদায়ের কাছে এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে আরো ভালো তথ্য থাকে। এএনআইসির প্রেসিডেন্ট ইমাম শাদি আলসুলেইমান এর আগে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে বলেছিলেন যে, মুসলিমবিরোধী ঘৃণা বেড়েছে। যার কারণে অনেকেই দৈনন্দিন ধর্মীয় কাজ, যেমন মসজিদে নামাজ পড়া বা হিজাব পরে বাইরে যেতে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code