অ্যান্টিবায়োটিকের লাগামহীন ব্যবহার আনতে পারে মহামারি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual6 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদন:আছিয়া খাতুন দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ৭০ বছর বয়সী এই নারীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। স্থানান্তরের তিন দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সবশেষ তাকে আর বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে কোনও ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছিল না। কাজ করলে তার সংক্রমণ কমিয়ে এনে বাঁচানো সম্ভব হতো।

Manual6 Ad Code

অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরেও শরীরে ব্যাকটেরিয়ার টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জনকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সাধারণ রোগের চিকিৎসা নেওয়া অনেক ব্যক্তির মধ্যে এই অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স দেখা দিয়েছে। এর ফলে রোগীর আগে যে অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সারতো, এখন আর সেটি কাজ করছে না। শুধু বাংলাদেশ নয়, এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্যের শীর্ষ ১০টি হুমকির মধ্যে একটি হলো অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)।

Manual5 Ad Code

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ফলে চিকিৎসা ব্যয় অতিমাত্রায় বেড়ে যায়, হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয় এবং মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। বিশ্বকে জরুরিভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ এবং ব্যবহারের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। এমনকি যদি নতুন ওষুধ তৈরি করা হয়, আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া— অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি বড় হুমকি হিসেবে থেকে যাবে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু) সমস্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে এসব ওষুধ প্রয়োজনীয় কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বল্প তীব্রতার অসুস্থতায়ও প্রাণ হারাচ্ছে অনেকেই। এছাড়া হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মাছের খামারসহ বিভিন্ন খাদ্যে নানাভাবে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধের যথেচ্ছ প্রয়োগেও মানবদেহে নানা ধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রবেশ করছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code