

সম্পাদকীয়: ২০০৮ সালের নির্বাচন- পরবর্তীকালে এক দিকে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মহাজোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অপর দিকে ইসলামী ভাবধারার ২০টি দল একত্র হলো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বৃহত্তর অর্থে ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে দু’টি জোটের বিপরীত অবস্থান বা সমীকরণ স্পষ্ট হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে আবারো রাজনৈতিক সমীকরণের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে। ইসলামী ভাবধারাপুষ্ট ২০ দলীয় জোটকে বহাল রেখে যুক্তফ্রন্ট নামে মিশ্র জোটের আবির্ভাব ঘটে। এ সময়ে আওয়ামী কর্তৃত্ববাদী সরকারকে পরাজিত করার স্বার্থে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী নমনীয় শক্তির সাথে ইসলামী মূল্যবোধের দুর্বল সমীকরণ লক্ষ করা যায়। নিশীথ রাতের নির্বাচনে জয়লাভের পর কার্যত যুক্তফ্রন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এরূপ সমীকরণের পর আগামী ২০২৩ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। বিরোধী ডান ও বাম ধারা নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষ ক্ষমতাসীন শক্তিকে অপসারণের লক্ষ্যে নতুন অধ্যায় রচিত করতে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন জোটের বিপরীতে আরেকটি বড় ধরনের জোট কৌশলগতভাবে আত্মপ্রকাশ করছে না।
১৯৯০ সালে এরশাদ পতন আন্দোলনে তিনটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। আদর্শিকভাবে চিহ্নিত করলে তিনটি ধারা দৃশ্যমান হয়। এগুলো ছিল ক্ষমতাশ্রয়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। দ্বিতীয়ত, জাতীয়তাবাদী জোট। তৃতীয়ত, বাম ধারার সাতদলীয় জোট। এরা আদর্শিকভাবে পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও বিপরীত ধারা অনুসরণ করলেও এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে একমত ছিল। যুগপৎ আন্দোলন ছিল তাদের রণকৌশল। এই মুহূর্তে জোটগত কৌশল সম্ভব হচ্ছে না, মূলত ক্ষমতাসীন সরকারের নিপীড়নের ভয়ে। দীর্ঘ আন্দোলন ও নির্বাচনী ব্যর্থতার পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নতুন করে নতুন কৌশলে রাজনৈতিক সমীকরণ ঘটাতে তৎপর হয়েছে।