

মৌলভীবাজার :
সাধারণ ছুটি শেষ হচ্ছে ৫ মে। আগামী ১৩ ও ১৯ মে দুটি নিলাম অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রাদুুর্ভাব পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে নিলাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ চা-বোর্ড। পুরানো মৌসুমের অবিক্রীত চা ও নতুন মৌসুমের উৎপাদিত চায়ের মজুদ বাড়তে থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ নিলাম বর্ষের দুটি নিলাম অনুষ্ঠিত না হওয়ার পাশাপাশি নতুন মৌসুমের নিলামসূচি এখনো প্রকাশ করতে পারেনি চা উৎপাদন ও বিপণনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এখন সীমিত আকারে দুটি নিলাম অনুষ্ঠানের পর পরিস্থিতি বুঝে নতুন মৌসুমের সম্পূর্ণ নিলাম আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে।
নিলামে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নিলাম পরিচালনাকারী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও চট্টগ্রামের দুটি সংস্থা, সবগুলো ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে চা-বোর্ড।
বুধবার চা-বোর্ডের উপ-পরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ মদহুল কবীর চৌধুরী স্বাক্ষরিত নিলাম সূচি ও নির্দেশনায় দেখা গেছে, নিলামকেন্দ্র, ব্রোকার হাউস ও ওয়ারহাউসে হাত ধোয়ার জন্য সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়াও করোনা প্রতিরোধে সরকারি সবগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবাইকে জীবাণুমুক্ত হয়ে নিলামকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। নিলাম শুরুর আগে ও পরে নিলাম ঘরটিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। নিলামকেন্দ্রের ভেতরে অন্তত ৭ ফুট দূরত্বে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে বিদ্যমান নিলামকেন্দ্রে বসার স্থান সংকুলান না হলে বড় কোনো হলরুমে নিলাম কার্যক্রম স্থানান্তর করতে হবে। পাশাপাশি নিলাম চলাকালে শুধু অপরিহার্য জনবল নিলামকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ২৪ মার্চের ৪৬তম ও ৩১ মার্চের ৪৭তম নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দেশের বাগানগুলোর উৎপাদিত অবিক্রীত চা (৪৫ থেকে ৪৭ নিলাম পর্যন্ত) আউটলেট পদ্ধতিতে বিক্রির নির্দেশনা দেয় চা-বোর্ড। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে নিলাম কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর প্রায় এক থেকে দেড় মাস বিরতি দিয়ে এপ্রিলের শেষ অথবা মে মাসের শুরুতে নতুন মৌসুমের নিলাম কার্যক্রম শুরু করে চা-বোর্ড। তবে সংকটময় পরিস্থিতির কারণে নতুন নিলাম বর্ষের কোনো শিডিউল ঘোষণা করতে পারেনি বোর্ড।