বাইডেনের অভিবাসন পরিকল্পনা অনিবন্ধিতদের জন্য খুলছে আলোর দরজা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ উন্মুক্ত করছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাঁর প্রস্তাবিত অভিবাসন পরিকল্পনা কংগ্রেসে পাস হলে এ দেশে বর্তমানে থাকা ১১ মিলিয়ন অনিবন্ধিত অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্বের দরজা খোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবে আশা তৈরি করছে। কিন্তু যাদের লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা, সেই অনিবন্ধিত অভিবাসীরা এ নিয়ে কী ভাবছেন? তাঁরা একে কতটা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন?

Manual4 Ad Code

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে যেতে হবে অভিবাসীদের কাছেই। যেমন, বাইডেনের পরিকল্পনা শোনার পরপরই মেরিল সালডা ঠিক করেছেন, তিনি মাকে দেখতে মেক্সিকো যাবেন যত দ্রুত সম্ভব। অর্থাৎ একটা আশার আলো দেখছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপের সময় তাই তিনি কোনো ভাবনা ছাড়াই শুরুতে নিজের এই পরিকল্পনার কথা বলেন। ঠিক একইভাবে বাইডেনের কথায় আশান্বিত হয়ে তাৎক্ষণিক নিজের একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিয়েছেন কারিনা রুইজ। কী করবেন কারিনা রুইজ? সিএনএনকে তিনি বলেন, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। দীর্ঘ দিন ধরে অন্যদের নিবন্ধনে সহযোগিতা করে এলেও নিজে কখনো ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারেননি। কারণ একটিই, কাগজ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সঙ্গে আলাপ করে সিএনএন এমন চিত্রই পেয়েছে। এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেনের অভিবাসন পরিকল্পনা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আশাবাদী করেছে। একই সঙ্গে জন্ম দিয়েছে উদ্বেগেরও। মূলত, কংগ্রেসে এই প্রস্তাব টিকবে কিনা, তা নিয়েই উদ্বেগ। রয়েছে নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নানা ভাবনাও।

Manual7 Ad Code

বাইডেনের পরিকল্পনা ঘোষণার পর ইলিনয়ের বাসিন্দা গ্লো হার্ন চোইয়ের মাথায় প্রথম এসেছে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সম্ভাবনার বিষয়টি। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা এই অনিবন্ধিত অভিবাসী সিএনএনকে বলেন, ‘একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স আমাদের পরিবারের ভাগ্যটাই বদলে দিতে পারে। আমি এখন ডাকার (ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস) জন্য আবেদন করছি। আমার মা-বাবার জন্যও অনুরূপ সুরক্ষা থাকলে খুবই ভালো হতো। সে ক্ষেত্রে তাঁরা এই দেশে নির্বিঘ্নে থাকতে পারতেন, বাইরে বের হতে ভয় পেতেন না। আমরা সব সময়ই এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকি। আমার বয়স যখন এক বছরেরও কম, তখন আমরা এখানে আসি। (সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক) ওবামার সময় যখন অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন শুরু হয়, তখনই আমরা বুঝলাম, আমাদের কোনো কাগজ নেই। তখনই জানলাম, পুলিশ যেকোনো সময় আমাদের আটক করতে পারে এবং পাঠিয়ে দিতে পারে সেই দেশে, যাকে আমি এমনকি চিনিও না। আমাদের কেউ কোথাও গেলে তার ফেরা নিয়ে পর্যন্ত অন্যরা আতঙ্কে থাকে। “নিরাপদে ফিরেছি”—এটাই আমাদের পরস্পরকে পাঠানো নিত্যকার বার্তা। আমি শুরুতেই হয়তো একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করব, যা আমাকে কোনো সংকট ছাড়াই দেশের যেকোনো প্রান্তে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।’

চোই বলেন, ‘বাইডেন যে প্রস্তাব করেছেন, তা ঠিক সেভাবেই কংগ্রেসে পাস হবে কিনা, হলে কবে হবে, এটাই আমার মূল চিন্তার বিষয়। এই প্রস্তাব পাস হলে আমার জন্য গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্ব পাওয়ার দরজা খুলবে। কিন্তু আমার কাছে সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে উপার্জনে নামতে হয়েছে। রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনকারী, বাসবয়, বারটেন্ডার, ডিশওয়াশার, ডেলিভারি ড্রাইভার—কী করিনি আমি। এটা খুবই কঠিন একটা বিষয়। বিশেষত, একজন তরুণের জন্য, যখন তার বন্ধুদের অধিকাংশই জীবন উপভোগে ব্যস্ত। আমার মাকে দেখেছি নিজের বয়সের তুলনায় বেশি বুড়িয়ে যেতে। আমার কাছে তাই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মা যেন অন্তত আট বছর বিশ্রাম নিতে পারেন, তাঁর যেন একটা অবসরকাল থাকে।’

হোসে আন্তোনিও ভার্গাস ৩৯ বছর বয়সী এই ভ্রমণপ্রেমী থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। বাইডেনের অভিবাসন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে দারুণ। আমি জানি, একে আইনে পরিণত করাটা ভীষণ কঠিন। এটা স্রোতের বিপরীতে চলার একটা প্রয়াস। এটাকে দারুণ শুরু বলতে হবে। প্রশাসন অবশেষে বালির ওপর একটা দাগ তো টানল। মিসিসিপি, উইসকনসিন বা আইওয়া—যেখানেই গেছি একটাই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি—কেন আমি বৈধতা নিচ্ছি না। অবাক হতাম এই ভেবে, মানুষ কেন অভিবাসন বিষয়টিকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে না। আমার মতো মানুষেরা বৈধ হতে পারেনি, কারণ তারা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল না। বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়াটিকে মানুষের জন্য তাদের হাতেই তুলে দিতে চাইছে।’ নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি শুরুতেই একটি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করব, যাতে আমি গোটা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে পারি। ফিলিপাইনে যাব মাকে দেখতে। নিজের মতো করে জীবনযাপন করব। কয়েক দশক ধরে আমি এমন একটি বিষয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি এমন অনেককেও চিনি, যারা তাদের ৫০-৬০ বছর বয়সেও অপেক্ষায় আছেন।’

Manual5 Ad Code

গত তিন বছর ধরে গির্জায় থাকেন জস চিকাস। এল সালভাদর থেকে আসা ক্যালিফোর্নিয়ার এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বয়স এখন ৫৫ বছর। যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছর ধরে থাকলেও এখনো সেখানে তিনি অনিবন্ধিত অভিবাসী। গির্জায় নিজের নিরাপত্তার জন্যই প্রার্থনা করেছেন এত দিন। এখন তাঁর প্রার্থনায় স্থান পেয়েছে বাইডেনের পরিকল্পনাটি। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এটা অনেক বড় আশার খবর, তিনি (বাইডেন) আমাদের, আমাদের মতো লাখো পরিবারকে সাহায্য করতে চাইছেন। কিন্তু আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখতে হবে। আমি এই দেশে ৩৫ বছর ধরে আছি। আমাদের জীবনে আমরা কখনো এমন সুরক্ষার আশ্বাস পাইনি। এটা অনেক বড় ব্যবধান গড়ে দেবে। একটা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন থাকলে, দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যেতে পারবেন। কোনো দুর্ভাবনা থাকবে না। আর নাগরিকত্ব পেলে তো আপনার একটা স্বতন্ত্র মতই থাকবে। আপনি এই জাতির জন্য নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এমন কিছু পেলে, আমি তাদের কাছে ছুটে যাব, যাদের সাহায্য প্রয়োজন।’

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code