আদমদীঘিতে পাল সম্প্রদায় মৃৎশিল্পকে ধরে রেখেছেন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

আদমদীঘি (বগুড়া) :
দেশে প্লাস্টিক ও সিলভার সামগ্রির ভীড়ে মৃৎশিল্প মুখ থুবড়ে পড়লেও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় আজও পাল সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্য মৃৎশিল্পকে ধরে রেখেছেন। বর্তমানে প্লাস্টিক ও সিলভারের থালা বাসন কলসি হাড়ি পাতিলসহ নানা সামগ্রীর বাজারে দাপট থাকলেও গ্রামগঞ্জে এখনও মাটির তৈরী মৃৎশিল্পের কদর কমেনি। তাই পূর্ব পুরুষদের এই পেশা ছাড়তে পারেননি পাল সম্প্রদায়ের কারিগররা। এখানকার অধিকাংশ মৃৎশিল্পী স্বাবলম্বী হয়েছেন।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার প্রায় ৯শতাধিক পাল সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্যবাহি পেশা মৃৎশিল্পকে আজও ধরে রেখে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বৃট্রিশ আমল থেকে শুরু করে অদ্যবদি উপজেলার রামপুরা, তালশন ও তারতা গ্রামের প্রায় ৯শতাধিক পাল পরিবার মৃৎশিল্প পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এখানকার মাটির তৈরী পাতিল, থালা. বাসন. ফুলের টব, কলস, ঝাঁজর, তবাক, গামলা, ঢোসকা, কুপিবাতি, দই’য়ের ভাঁর বা খুটিসহ নানা মৃৎ সামগ্রী তৈরী করেন সুদক্ষ কারিগররা। তাদের তৈরী মৃৎ সামগ্রী নিখুঁত ও মনকারা হওয়ায় ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক যোগে সরবরাহ করা হয়। রামপুরা গ্রামের মৃৎশিল্পী বিপুল চন্দ্র ও বাবু চন্দ্র পাল জানান, বৃট্রিশ আমল থেকেই পাল বংশ পূর্ব পুরুষদের পরানপরায় আজও এই পেশা ধরে রেখেছেন। তারা বলেন মাটির তৈরী জিনিস যারা ব্যহার করেন তারাই কিনেন। কোন কোন অঞ্চলে মাটির তৈরী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কদর বেশি। আগে কাঁদে ভার বহন করে গ্রামে গ্রামে ফেরী করে বিক্রি করতে হয়েছে। এখন তা করতে হয়না। প্রতিদিন রামপুরা গ্রাম থেকেই ৩/৪টি ট্রাক বোঝাই করে পাইকাররা নিয়ে যান এই মৃৎ সামগ্রী। আগের তুলনায় দামও পাওয়া যাচ্ছে ভাল। শ্রীমতি মিনতি রানী পাল জানান সে মাটির তৈরী সামগ্রী ফিনিসিংয়ের কাজ করে স্বামীকে সহযোগীতা করেন। মনমত চন্দ্র পাল ও দীলিপ পাল জানান, যুবক কাল থেকে মাটির পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরী কাজ করে আসছেন। দই রাখার খুঁটি বা ভার তৈরীতে কাটুনি কম লাগে এতে দামও পাওয়া যায় বেশি। যোগ্য চন্দ্র পাল জানান. আগে মাটির তৈরী মৃৎশিল্পের প্রচুর চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সিলভার ও প্লাষ্টিক সামগ্রী বাজারে আসায় অনেকটা চাহিদা কমে গেছে। তবে মাটির তৈরী বাতিল বা বাসনে রান্না ও খাওয়া দাওয়া করায় পূর্ব পুরুষদের শরীরে রোগবালাই কম দেখা গেছে। পাল বংশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৃৎশিল্পের হাল ছাড়তে পারিনা। এই শিল্পকে সরকারী ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে আরও এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code