আমাদের করোনা নেই আছে পেটের ক্ষুধা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

আব্দুল্লাহ হেল বাকী, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
তখন ভীষণ রোদ। শরীরের উপর দিয়ে তির্যক বেগে ছুটে চলেছে গরম হাওয়া। এদিকে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আসছে লকডাউন। দুই একটা ভ্যান রিক্সা ছাড়া সাধারণ মানুষের খুব একটা দেখা নেই পথে। দোকানপাট আধো বন্ধ। স্বাস্থ্যবিধি মানতে তখন সবাই ফিরে গেছেন ঘরে। কিন্তু ক্ষুধার তাড়নায় অর্থের খোঁজে ঘর থেকে রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে সমাজের অবহেলা ও অনাদরে পড়ে থাকা মমিন হোসেনের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাগ্যহত মানুষদের। পেটের ক্ষুধা বলে কথা। সেখানে করোনার মতো মৃত্যু ভয়ও হার মেনেছে তাদের কাছে।

করোনাকালে অসহায় মানুষগুলোর খোঁজখবর নিতে গিয়ে দেখা মিলল এমনই একজন ভাগ্যহত শারীরিক প্রতিবন্ধী মমিন হসেন এর সাথে। হলুদ বিবর্ণ শরীরে তার কিছুই নেই। দেখে মনে হল চামড়ার ভেতর থেকে বের হয়ে আসছে কঙ্কাল। জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা কাপড়ের একটি ব্যাগ গলায় ঝুলিয়ে দুই একটি টাকার খোঁজে বের হয়েছেন রাস্তায়। তিনি দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতেও পারেন না। তাইতো তাকে বসে থেকেই হেঁটে হেঁটে যেতে হয় অর্থের খোঁজে। শরীরের মত তার হাত দুটোও হয়েছে আজ কর্মহীন।

পরিচয় এর এক ফাঁকে জানা হলো নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার এক নম্বর ধামইরহাট ইউনিয়ন হরিতকী ডাঙ্গা গ্রামে তার বাস। বাবা মৃত জামাল হোসেন। জন্মের পর পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পুরোপুরি বিকলাঙ্গ হয়ে যান। দরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়ায় বাবা মা অনেক চেষ্টা করলেও অর্থের কাছে তার চিকিৎসা হেরে যায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বর্তমান তাকে একজন শারীরিকভাবে কর্মহীন প্রতিবন্ধী হিসেবে পঙ্গুত্ব জীবন বেছে নিতে হয়েছে।

Manual3 Ad Code

চার বছর আগে মা মালেমা খাতুন মারা যান। অভাবের সংসারে বাবাই শুধু আমার একমাত্র সম্বল ছিলেন। তিনিও প্রায় দুই মাস আগে মারা যান।

Manual5 Ad Code

টাকা ছাড়া এই সমাজে মানুষ কতটা মূল্যহীন তা কিভাবে বুঝাই বলুন। লকডাউন হলে খাব কি তাও জানিনা। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে চোখে জল নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন প্রতিবন্ধী মমিন হসেন।

মমিন হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের করোনা নেই আমাদের আছে পেটের ক্ষুধা। পেটের ক্ষুধার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে দুই এক টাকার জন্য ঘুরে বেড়াই। কাল লকডাউন খাবো কি? সমাজে আমাদের মত মানুষের কেউ খোঁজ রাখে না।

Manual2 Ad Code

তার অভিযোগ প্রতিবন্ধী কার্ড পেলেও তিনি নিয়মিত ভাতার টাকা পান না।

এ বিষয়ে ধামইরহাট ১নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবন্ধীর টাকা ব্যাংক দিয়ে থাকেন। আমরা সব সময় চেষ্টা করে থাকি তারা যেন খুব সহজেই টাকা পান। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code