প্রকাশনা উৎসবে সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘যখন “মা” উপন্যাসটি বেরিয়েছে তখন ইন্টারনেট অতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বইটি ইন্টারনেটে বিনামূল্যে দিয়ে দেবো। যেন এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি সবাই বিনামূল্যে পড়তে পারেন। তখন ইন্টারনেট ভার্সন উদ্বোধন করেছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তখন ঘরে ঘরে ইন্টারনেট ছিল না। ধানমন্ডিতে একটি সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে বইটির উদ্বোধন করেছিলাম। আনিসুল হকের “মা” বইটি তার সন্তানের মতো। এই বইটির কী পরিমাণ পরিচর্যা লেখক করেছেন সেটি আমি কাছ থেকে দেখেছি। ২০০৩ সালে আমরা বইটি প্রকাশ করলাম, ২০১৩ সালে ৫০তম মুদ্রণ করলাম, ২০১৮ সালে ৭৫তম এবং ২০২০ সালের শেষে এসে শততম মুদ্রণ করলাম।’
ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আনিসুল হকের বই ১০০তম মুদ্রণ হয়েছে এটি একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আমাদের দেশের মানুষ বই পড়া ছেড়ে দিয়েছে। আমি আগে যখন বইমেলায় যেতাম তখন অটোগ্রাফ দিতে হতো, এখন সেলফি তুলতে হয়। মোটামুটিভাবে মানুষ বই থেকে সেলফিতে নেমে এসেছে। সেই সময় একটি বই ১০০তম মুদ্রণ হয়েছে এটা খুবই আনন্দের ও গৌরবের বিষয় আমাদের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বইটি ভালো লাগার পেছনে কারণ হচ্ছে এটি মুক্তিযুদ্ধের বই। আমার লেখায় সব জায়গায় আমি নতুন প্রজন্মকে বলার চেষ্টা করেছি মুক্তিযুদ্ধের কথা। কারণ আমি মনে করি, তরুণ প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারটি জানে, তাহলে সত্যিকার অর্থে দেশটিকে ভালোবাসবে।’
এ অনুষ্ঠানে শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার স্ত্রীর অনেক প্রিয় বই এটি। তিনি অনেকবার পড়েছেন এবং আমাকে বলেছেন, “এই বই পড়া শুরু করলে ছাড়তে পারি না।” বলা চলে, আনিসের “মা” উপন্যাসটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় ন্যারেটিভ। তিনি জানেন, কোন জায়গায় লেখায় হিট করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে আর কোনও লেখক এতটা ফিল্ডওয়ার্ক করে লেখেননি।’
আনিসুল হক বলেন, ‘১০০তম মুদ্রণ খুব একটা বড় কথা নয়, এটা আমার নিজের ধারণা। আরও অনেক বই অনেক বিক্রি হয়েছে। কেউ হয়তো হিসাব রাখেনি, আর আমাদের প্রকাশকদের হিসাব না রাখতে পারলে বোধ হয় একটু সুবিধা হয়। “মা” বইটি আসলে শহীদ আজাদ তার বুকের রক্ত দিয়ে এবং মা তার অশ্রু দিয়ে লিখেছেন। আমি শুধু একটা মাধ্যম হিসেবে প্রকাশ করেছি।’