নিউজ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ থেকে যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে আফ্রিকার আটটি দেশের ওপর যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নামার আগে ১৪ দিনের মধ্যে ঐ ৮টি দেশের কোনোটিতে ছিলেন এমন বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার নিয়ম ৩১ ডিসেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ থেকে ‘সাবধানতার অংশ হিসেবে’ গত ২৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার আটটি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিক নন এমন প্রায় সবার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই আটটি দেশ হচ্ছে—দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, লেসোথো, ই’সোয়াতিনি ও মালাউয়ি। তবে এই দেশগুলো থেকে আসা ফ্লাইট বা মার্কিন নাগরিকদের ওপর কোনো বিধিনিষেধ ছিল না।
হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র কেভিন মুনোজ টুইটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছেন, যা আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। টুইটে মুনোজ বলেছেন, ‘ওমিক্রনকে বুঝতে সময় দিয়েছে এই বিধিনিষেধ, আমরা এখন জানি প্রচলিত টিকা বিশেষ করে বুস্টার ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কাজ করে।’
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনেও যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই আফ্রিকার আট দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল।
আফ্রিকার দেশগুলো থেকে মানুষ আসা বন্ধ রাখলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমণ পরিস্থিতির তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে না; তাছাড়া এখন বাজারে থাকা টিকা ও বুস্টার ডোজ ওমিক্রন প্রতিরোধে বেশ কার্যকর বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মার্কিন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্হাগুলো নতুন করে কোনো টিকারও প্রয়োজন দেখছে না বলে ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। ওমিক্রনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তাদের বিমানবন্দরে নামা আন্তর্জাতিক ভ্রমণার্থীদের জন্য কোভিড পরীক্ষার নীতিতে কড়াকড়ি এনেছে; বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজের ভেতর মাস্ক পরে থাকার নিয়মও ১৮ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
