আবারো শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তনের উদ্যোগ

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:কারিকুলামে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। নতুন কারিকুলামে গুরুত্ব দেয়া হবে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক পাঠদান এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শেখার ওপর। শিক্ষায় শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং অগ্রাধিকার দেয়া হবে হাতেকলমে শেখা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার বিকাশকে। তিন ধাপে শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনে থাকবে পাঠ্যবই পরিমার্জন, কারিকুলাম রিভিউ এবং নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন। একই সঙ্গে ডিজিটাল কনটেন্ট, ইন্টার অ্যাকটিভ লার্নিং এবং আধুনিক শিখন পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনে চলতি বছর কমিটি গঠন ও পরিকল্পনা, ২০২৭ সালে পাঠ্যবই পরিমার্জন ও প্রশিক্ষণ এবং ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষে পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন। আর ২০২৭ সালের জন্য পাঠ্যবইয়ে আনা হবে পরিবর্তন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিল্পকলা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই যুক্ত করা হবে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

Manual3 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য তৈরি করা হবে ২০০ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ প্যানেল। প্যানেলে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকবে। তাতে কোনো সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। বরং যে শিক্ষক যে সেক্টরে দক্ষ তাকে দিয়ে সেই বিষয়ের কাজ করানো হবে। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক রাজনৈতিকভাবে যে মতাদর্শেরই হোন না কেন সেটি বিবেচনায় নেয়া হবে না। তাছাড়া অভিভাবকদের থেকে প্রতিনিধি রাখারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্যানেল পাঠ্যবই পরিমার্জনের পাশাপাশি বিদ্যমান কাঠামোর দুর্বলতা নিয়েও কাজ করবে। যা মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে বিদ্যমান কাঠামোর সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব প্রয়োগের সমস্যাগুলো। আর অভিজ্ঞতার আলোকেই নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে।

Manual2 Ad Code

সূত্র জানায়, নতুন শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা) এবং সোশ্যাল কালচার (সমাজ সংস্কৃতি) নামক নতুন দুটি পাঠ্যবই। পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও নতুন নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হবে। ৪র্থ শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে শারীরিক শিক্ষা। তার আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কারাতে কিংবা দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস এবং ব্যাডমিন্টন ওই সাতটি খেলা থাকবে। তবে ওই বিষয়ে কোনো পরীক্ষা না হলেও ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। তাছাড়া আমূল পরিবর্তন করা হচ্ছে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বিষয়ের বইটির। সেখানে বিশ্ব প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে এআই এবং রোবোটিক অংশসহ অনেক নতুন বিষয়ই যুক্ত করার।

Manual6 Ad Code

সূত্র আরো জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ শিক্ষাবর্ষে চালু করেছিলো সৃজনশীল পদ্ধতি। তার উদ্দেশ্য ছিল মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, নিজস্ব মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ। কিন্তু মুখ থুবড়ে পড়ে বিগত ২০১২ সালে পুরোদমে চালু হওয়া ওই পদ্ধতি। কারণ এক গবেষণায় দেখা যায়, ৪২ শতাংশ শিক্ষকই সৃজনশীল বোঝেন না এবং প্রশ্ন করতেও পারেন না। বরং নোট-গাইড দেখে প্রশ্ন তৈরি করেন এবং উত্তর বানান। তাতে শিক্ষার্থীদের ৯২ শতাংশও গাইড বইনির্ভর হয়ে পড়ে। তারপর ওই পদ্ধতি বাতিল করা হয়। তারপর বিগত ২০২২ সালে শিক্ষা কারিকুলামে আবারো পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু ওই কারিকুলাম বাংলাদেশের জন্য বাস্তবতা বিবর্জিত ছিল। ফলে নানান কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিল ওই কারিকুলাম। এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের পরিবেশ, অর্থনীতিসহ নানান যুগোপযোগিতা বিবেচনা করে কারিকুলাম প্রস্তুত করা হবে।

এদিকে বর্তমান সরকার শিক্ষাকারিকুলাম পরিবর্তনে তাড়াহুড়ো করবে না বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেপ্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে কারিকুলামের বেশ কয়েকটি বিষয়। কারিকুলাম নিয়মিত আপডেট করা হবে। তাতে স্পষ্ট করা হবে শিক্ষার্থীরা কী পড়বে বা কতোটুকু পড়বে। নতুন কারিকুলামে জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল আপডেট ব্যবহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা যুক্ত থাকবে। তাছাড়া কারিকুলামে হাতে শেখা কাজ ও টিম ওয়ার্ক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Manual8 Ad Code

অন্যদিকে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জরুরি। তাতে ঘাটতি থাকলে যে কোনো কারিকুলামেই আসবে না সফলতা। কারিকুলাম হতে হবে সময়নির্ভর। মুখস্থনির্ভরতা থাকা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্যাপাসিটিও যাচাই করতে হবে এবং ক্যাপাসিটি অনুযায়ী কারিকুলাম ম্যানেজ করতে হবে। কোনোভাবেই হাঁটা যাবে না কোচিং কিংবা গাইড বইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পায় তেমন পথে।

এ বিষয়ে সমপ্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে চলমান পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন ও নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন ও নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলমত বিবেচনা করা হবে না। উচ্চমানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ওই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code