আব্বাসের ইসরাইল সফর ফিলিস্তিনিদের বিপদে ফেলবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের হঠাৎ ইসরাইল সফর ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।  বলা হচ্ছে— মাহমুদ আব্বাসের এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনের আরও বিপদে ফেলবে।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে মিডলইস্ট আইয়ের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যান্টজের বাড়ি রোস হাইনে তার সঙ্গে বৈঠক করেন মাহমুদ আব্বাস।  ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিষয় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

বেনি গ্যান্টজ ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্টকে বলেছেন— অর্থনৈতিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে আস্থা জোরদার করতে ইসরাইল উদ্যোগ নেবে।

এর আগে গত আগস্টে গ্যান্টজ ফিলিস্তিন সফর করেন।  সেখানে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে তার কথা হয়। গত কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কোনো নেতার মধ্যে এটিই প্রথম সংলাপ। ওই সফরের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছিলেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি প্রক্রিয়ায় নেই জেরুজালেম। আর সাম্প্রতিক বৈঠককে ইসরাইল ‘আস্থা বাড়ানোর ব্যবস্থা’ বলে উল্লেখ করেছে।

ইসরাইলি দখলদারদের সহিংসতা বেড়ে যাওযায় সম্প্রতি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

Manual6 Ad Code

এমতাবস্থায় প্রেসিডেন্ট আব্বাসের ইসরাইল সফর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

Manual2 Ad Code

অনেকেই বলছেন, আব্বাসের এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের বিপদে ফেলবে।

Manual7 Ad Code

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মাহমুদ আব্বাসের এই উদ্যোগকে ইসরাইলের কাছে হাত পাতা হিসেবে দেখছেন।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হানি আল মারসি বলেন, ফিলিস্তিনিরা সম্প্রতি যেসব সংকট মোকাবিলা করে, তাতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কীভাবে টিকে থাকবে সেই লক্ষ্যেই ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন আব্বাস।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ চরম অর্থ সংকটে ভুগছে।  টিকে থাকার জন্য তার অর্থ সহায়তা চাই। সামরিক বাজেট দেওয়ার মতো অর্থও নেই। এমতাবস্থায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

Manual4 Ad Code

এই টাকা নেওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সেনাবাহিনীকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরাইলের বিশ্লেষক শির হেভার। তিনি বলেন, ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর স্বার্থ সমুন্নত রাখার ক্যাম্পেইনের অংশ হচ্ছে দুই নেতার এই বৈঠক।

গাজা উপত্যকার বাড়িঘরগুলো এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। একদিকে দখলদারদের হামলা, অন্যদিকে ফিলিস্তিনের গ্রামগুলোতে চলছে ইসরাইলি সেনাদের অভিযান। সব মিলিয়ে পশ্চিমতীর এখন ভয়ের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এমতাবস্থায় ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ৩২ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।  সেই সঙ্গে ৬ হাজার ফিলিস্তিনিকে পশ্চিমতীরে এবং ৩৫০০ জনকে গাজা উপত্যকায় ঘরবাড়ি করে দিতে রাজি হয়েছে।

ইসরাইলের একদিকে ঘরবাড়িতে হামলা, অন্যদিকে অর্থ সহায়তা গ্রহণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য আত্মঘাতী বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হানি আল মারসি বলেন, যে প্রেসিডেন্ট রাতের আঁধারে মিটিং করতে যান, তাকে আমরা চোর ছাড়া আর কী বলতে পারি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code