আমতলীতে পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে।

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

আমতলী (বরগুনা):

Manual2 Ad Code

চলছে হাঁড় কাপানো শীত । শীত মানেই তো পিঠা-পুলির দিন। পিঠার ঘ্রাণে ম-ম করছে চারদিক। এমন কিছু ভাবনাই তো বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নেয়। শীতল আমেজ এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। হাড়কাপানো শীতে জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকানগুলো।
আমতলীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছে পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে। বেচাকেনাও বেশ ভালোই। চলতি পথে থেমে কেউ বা আড্ডায় বসেই সন্ধ্যার নাশতাটা সেরে নিচ্ছেন গরম গরম ভাপা পিঠা কিংবা চিতোই পিঠা দিয়ে। আমতলী প্রেসক্লাবের সামনে পিঠা বিক্রেতা জোসনার সঙ্গেও আলাপ করে জানা গেল, বেচা-বিক্রি বেশ ভালোই। তাই তো অনেকেই এ শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। পৌষের তীব্র শীতে আমতলী শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, অলি-গলিতে জমে উঠেছে ভাপা চিতই পিঠা বিক্রির হিড়িক। শীতের সন্ধ্যার পর পরেই ভাপা পিঠা বিক্রির দোকানগুলোতে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নান শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের বটতলা,বাঁধঘাট চৌরাস্তা, সদর হাসপাতালের সামনে, উপজেলা পরিষদের সামনে, প্রেসক্লাবের সামনে, বৌবাজার, মিঠাবাজার, অমলপালের দোকানের সামনে, লঞ্জঘাটসহ শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে রাস্তার ফুটপাতে ও মোড়ে মোড়ে বসেছে ভাপা পিঠার দোকান। পাশাপশি বিক্রি করছে চিতল (চিতাই) পিঠাও। বিশেষ করে ভোর বেলা আর সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। বেশিরভাগ দোকানেই পিঠা বিক্রি করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষ, নারী ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা।
পিঠা বিক্রেতা জ্যোৎ¯œা, জসিম, শহিদ, ও চম্পা বলেন, আমরা সারাদিন বিভিন্ন কাজ করি। অবসর সময় বাড়তি আয়ের জন্য বিকেল বেলা পিঠা বানানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। নতুন চালের গুড়ো ও বিভিন্ন ভর্তা ও নতুন খেজুরের গুড় দিয়ে খুব যতœ সহকারে তৈরি করা হয় ভাপা পিঠা। পিঠাকে আরো সুস্বাদু করার জন্য নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। ভাপা পিঠা ছাড়াও ক্রেতাদের জন্য চিতল (চিতাই) পিঠা তৈরি করা হয়। এসব পিঠা প্রতি পিস ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি পরিমান চালের পিঠা বিক্রি হয়। শীতের চিতল (চিতাই) পিঠার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে মরিচ, সরিষা, সুটকি ও ধনেপাতার ভর্তা ফ্রি দেওয়া হয়।
পিঠা তৈরির বিষয় জানতে চাইলে জসিম বলেন, পিঠা তৈরির জন্য একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এ সময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়া ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেওয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাব বের হতে না পারে। পরে ছোট একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়া, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরনে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির গরম তাপেই নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের ভাপা পিঠা। পিঠা ক্রেতা আমতলী ডিগ্রী কলেজের ছাত্র সুমন বলেন, সব ধরনের ক্রেতা এখানে আসে পিঠা খেতে। আবার কেউ কেউ বাড়িতে ছেলে মেয়েদের জন্য পিঠা কিনে নিয়ে যায়।
আমতলী প্রেসক্লাব সভাপতি মো. কবির দেওয়ান বলেন, শীত মৌসুমে এ অঞ্চলের অনেক গরীব অসহায় মৌসুমী পিঠা বিক্রি করে আয় রোজগারের পথখুজে পেয়েছেন।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code