‘আমাদের বেছে নিতে হচ্ছে কোন রোগীকে চিকিৎসা দেব, কাকে দেব না’

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে এখনও প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা গড়ে একশ জন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইটালিতে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম সারিতে থাকা চিকিৎসকরা বলছেন, এতো রোগীর ভিড় যে কাদের তারা বাঁচানোর চেষ্টা করবেন এবং কাদের ফেলে রাখবেন তা তাদের বেছে নিতে হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের পর্যাপ্ত বিছানার ব্যবস্থা করতে রীতিমত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তারা। যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়া কোন দেশের এমন পরিস্থিতি ভাবা যায় না।

Manual8 Ad Code

উত্তরাঞ্চলীয় লম্বার্ডিয়া অঞ্চলের বার্গামো শহরের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের প্রধান ডা. ক্রিশ্চিয়ান সালারোলি ক্যুরিয়েরে ডেলা সেরা নামে এক সংবাদপত্রকে তার হাসপাতালের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সের মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি ভীষণ শ্বাসকষ্টে ভোগেন তবে আপনি চিকিৎসার জন্য এগিয়ে যেতে চাইবেন না।

কাকে বাঁচাতে কতটা চেষ্টা করবেন- ইটালিতে চিকিৎসকরা এখন সেই কঠিন নৈতিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। করোনা ভাইরাসে ইটালিতে শুক্রবার পর্যন্ত ১৭,৬৬০ সংক্রমিত হয়েছেন। এরমধ্যে মারা গেছেন ১,২৬৮ জন, যেটা চিনে মৃত্যুর প্রায় এক তৃতীয়াংশ।

Manual5 Ad Code

 

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যার দিক থেকে জাপানের পর বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইটালি। যার অর্থ যদি ভাইরাসটি ঐ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমিত হয় তাহলে তারা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকবেন।

Manual3 Ad Code

‘আমাদের বেছে নিতে হচ্ছে কোন রোগীকে চিকিৎসা দেব, কাকে দেব না’

ইতালিতে প্রায় ৫,২০০টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ শয্যা রয়েছে। কিন্তু শীতকাল হওয়ায় এর মধ্যে অনেক রোগী শ্বাসকষ্টজনিত রোগ নিয়ে ওই শয্যাগুলোয় ভর্তি আছেন। লম্বার্ডি এবং ভেনেটোর মতো উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোয় বেসরকারি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় মাত্র ১৮০০টি শয্যা রয়েছে। লম্বার্ডির একটি হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ স্টেফানো ম্যাগনান বিবিসিকে বলেন, তারা তাদের সক্ষমতা শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন।

দেশটির চিকিৎসকরা জানান, দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে- কারণ, আমরা করোনা ভাইরাস পজিটিভ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আইসিইউ শয্যার সংখ্যা, পাশাপাশি সাধারণ ওয়ার্ডগুলোর সক্ষমতার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি। আমাদের প্রদেশে, জনবল ও প্রযুক্তি দুটি সম্পদ সম্পূর্ণভাবে ফুরিয়ে গেছে, আমরা এখন কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের নতুন যন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছি।’

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code