বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যারা বাংলাদেশে কোরবানি দিতে চান, তাঁদের জন্যও সেখানে ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। একটি ছাগল বা খাসি ১৫০ ডলার ও গরুর ভাগ ২৫০ ডলার। বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য (৭১৮) ৪৯৬-৯৩৭৭ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
এদিকে কোরবানীই এই ঈদের মূল মাহাত্ম্য ও আদর্শ। তিরমিজী শরীফের এক হাদীসে নবীজী বলেছেন, ঈদুল আদহার দিন (নামাজের পর) পশু কোরবানী করার চেয়ে বড় কোন এবাদত মহান আল্লাহর নিকট সাওয়াবের দিক থেকে বেশি মূল্যবান নহে। তিনি বলেন, কিয়ামত দিবসে নেকি-বদী মাপার পাল্লায় কোরবানী কৃত পশুর শিং, খুর, লোম-চামড়া, হাড্ডি ও উচ্ছিষ্ট কোরবানীকারীর নেকির আমলনামার পাল্লা ভারি হবার জন্য তা তুলে দেয়া হবে।
নবীজী আরোও বলেছেন, কোরবানীর পশু জবাই করার পর এর রক্তফোটা মাটিতে পড়ার আগেই তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। তাই অতি আনন্দে কোরবানী করার জন্য তিনি সকলকে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
আরেকটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, নবীজীর উপর কোনদিনও জাকাতের নেসাব পরিমাণ অর্থ-সম্পদ না থাকায় জাকাত ফরজ ছিলনা, যা কোরবনী ওয়াজিব হবার জন্য শর্ত, তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবার ঈদুল আদহার সময় দুটো পশু কোরবানী করতেন। ১টি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে এবং আরেকটি কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল উম্মাতের পক্ষ থেকে। তাই, সকলের উচিৎ যাদের আল্লাহ কোরবানী করার তাওফীক দিয়েছেন, এবং কোরবানী করবো, আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখা অতীব জরুরী, যেনো ৭ নামের অন্তত একটি নাম আমরা হজরত মোহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর নামে কোরবানী করি।
মহান আল্লাহ কাল কিয়ামতের দিন নবীজীর সুপারিশে আমাদের অবশ্যই ধন্য করবেন। আমাদের একটুখানি ইচ্ছাই তাতে যথেষ্ট। জিলহজ ১ থেকে ১০ দিনের মূল্য আল্লাহর নিকট অপরিসীম, তাই, এই সময় যেনো আমরা হেলায় না কাটাই। ৯ই জিলহজ আরাফাতের দিনের ফজীলতের রোজাটাও যেনো আমরা রাখতে পারি, সেদিকে যেনো আমাদের পুরো লক্ষ্য থাকে।
আরেকটি জরুরী আমল হলো: তাকবীরে তাশরীক: মাহে জিলহজ্বের ৯ তারিখ ফজর থেকে নিয়ে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত পুরুষরা উচ্চস্বরে ও নারীরা নিম্নস্বরে ১-৩ বার প্রতি ফরজ নামাজ আদায়ের পর এ তাকবীর জপ করা ওয়াজিব। প্রকাশ থাকে যে, ঈদ বাজারের কোন রেওয়াজ ঈদুল আদহায় নেই। তবে হেঁ, কোরবানীর গুরুত্ব বিবেচনায় পশু বিক্রির বাজার অবশ্যই জরুরি। তাকবীরে তাশরীক: আল্লাহু আকবারুল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবারু ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
