আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নির্বাচন ২০২১: নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালো রাশেদ-কাশেম প্যানেল

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago
News Tag

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) নির্বাচন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচন কমিশন তা জানুয়ারিতে নিয়েছে। আগের তফশীল অনুযায়ী ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন হবার কথা। তাছাড়া গঠনতন্ত্রের ১.৪.১ মোতাবেক (নির্দিষ্ট ফরমে প্রয়োজনীর ফি প্রদানের মাধ্যমে সদস্যদের আবেদন করতে হবে। বছরের যে কোন সময় সদস্যপদের নতুন কিংবা নবায়নের জন্য আবেদন করা যাবে, তবে সাধারন সদস্য পদের মেয়াদ হবে জানুয়ারি ১ থেকে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত।) ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ এ সাধারন সদস্যদের মেয়াদ উর্ত্তীন্ন হলে তাদের আর ভোটাধিকার থাকে না। তা ছাড়া গঠনতন্কের ২.১ ধারা অনুসারে (জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন কমিটির শপথ নেয়ার নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে। কার্যকরী কমিটির নির্বাচন ঐ বছরের পূর্ববর্তী বছরের ৩১ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে।) নির্বাচনে দেরী হওয়ায় সাধারন সভায় সর্বসম্মতিতে ৩১ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

Manual4 Ad Code

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাশেদ-কাশেম প্যানেল এর পক্ষ থেকে জানান হয়, তফশীল অনুসরণ করে ‘রাশেদ-কাশেম প্যানেল’ মনোনয়ন পত্র জমা দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু সেই প্যানেলের সাথে কোন যোগাযোগ না করে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়ের মাত্র ২০ মিনিট আগে নির্বাচন কমিশন টেক্সট বার্তায় তা স্থগিত করেন। নয়া তফশীল ঘোষণার সময়েও এবিপিসির কার্যকরী কমিটির সাথে পরামর্শ করা হয়নি। অথচ এবিপিসির বিশেষ সাধারণ সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা। সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করায় নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য পপি চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। সে তথ্যও এবিপিসিকে অবহিত করার প্রয়োজন বোধ করেননি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবি মিশুক সেলিম। এ অবস্থায় বিদায়ী কমিটির সভাপতি লিখিতাকারে পপি চৌধুরীর পদত্যাগ-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে কী করা উচিত তা জানার চেষ্টা করেও নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের কাছ থেকে ন্যূনতম সাড়া পাননি বিদায়ী সভাপতি।

Manual5 Ad Code

নির্বাচনে ভোটার/সদস্য তালিকা নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে রীতি অনুযায়ী এবিপিসির সভা আহবান করা হয় ১১ ডিসেম্বর নবান্ন পার্টি হলে। সভাপতি লাবলু আনসারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভা চলাকালে আপত্তি উঠা ৩ সদস্য (রুমি কবির-আটলান্টা, সুব্রত চৌধুরী-আটলান্টিক সিটি এবং প্রতাপচন্দ্র শীল, বস্টন) কে নির্বাচনে ভোটাধিকার নিয়ে নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন কালেই বিদায়ী সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম পাল্টা প্রেসক্লাব গঠনের হুমকি দিয়ে সভাস্থল ত্যাগের সময় সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর ই শিবলী, যুগ্ম সম্পাদক রিজু মোহাম্মদকে ইঙ্গিত দেন তাকে অনুসরনের জন্যে। অর্থাৎ এই তিনজনই সভা বর্জন করেন সভাস্থলেই পাল্টা প্রেসক্লাব গঠনের হুমকি দেন যা গঠনতন্তের ১.৪.৪ ধারা মোতাবেক সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য দন্ডনীয় অপরাধ, এর কয়েক সেকেন্ড পর অপর সহ-সভাপতি আকবর হায়দার কিরণও সভাস্থল ত্যাগ করেন অসুস্থতার অজুহাতে। অপর কর্মকর্তারা (সভাপতি লাবলু আনসার, কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক কানু দত্ত, প্রচার সম্পাদক শাহ ফারুক, নির্বাহী সদস্য আজিমউদ্দিন অভি) উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখেন।

এমন সময় আবারো সভাস্থলে ফেরেন সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম। তিনি কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেমের কাছে দেয়া তার ২০২১ সালের সদস্য ফি হিসেবে সমুদয় অর্থ ফেরত চান যা বেআইনি এ অনৈতিক অর্থাৎ তিনি এই ক্লাবের সাথে থাকবেন না বলে জানান। (উল্লেখ্য, এই সভার শুরুতে উপস্থিত হয়ে নিজের মতামত দিয়ে চলে যান নির্বাহী সদস্য ফারহানা চৌধুরী।) বিদায়ী সেক্রেটারির এহেন আচরণে সকলে হতভম্ব হলেও ক্লাবের স্বার্থে কোন বাদানুবাদে লিপ্ত হননি। কোষাধ্যক্ষ তাকে সদস্য ফি’র অর্থ ফেরৎ দিতে (সভার সিদ্ধান্ত ব্যতিত) অস্বীকার করলে সেক্রেটারি নিরবে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে উপরোক্ত ৩ জনসহ মোট ৩৪ জনকে নির্বাচনে ভোটার হিসেবে চ’ড়ান্ত করা হয়। এবং রেজ্যুলেশনের সেই কপি নির্বাচন  কমিশনকে প্রথমে ই-মেলে এবং পরবর্তীতে টেক্স ও সরাসরি প্রদান করা হয়। এতদসত্বেও পুনতপসিলে ৩১ ভোটারের কথা উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনের অবশিষ্ট দুই সদস্য-যানির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত।

এভাবেই এবিপিসির গঠনতন্ত্র পরিপন্থি আচরণে লিপ্ত হওয়ায় মিশুক সেলিম এবং জাহেদ শরিফের সমন্বয়ে অসম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে লিপ্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে কখনোই ন্যায়-নিষ্ঠতা আশা করা যায় না বিধায় ‘রাশেদ-কাশেম প্যানেল’র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের সেচ্ছাচারিতা ও অন্যায়ের প্রতিবাদে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারিরা হলেন সভাপতি রাশেদ আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ জামান তপন, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক শাহ ফারুকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম উদ্দিন অভি, নির্বাহী সদস্য লাবলু আনসার, কানু দত্ত এবং রাজুব ভৌমিক। প্রত্যাহারের সময় এই প্যানেলের সাথে মনোনয়নপত্র জমাদানকারি সহ-সভাপতি আকবর হায়দার কিরন এবং শিব্বির আহমেদ ও প্রচার সম্পাদক নিহার সিদ্দিকীকে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে রয়েই গেছে।

Manual7 Ad Code

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন হচ্ছে না ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে, এবং নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ দিয়ে ভোটার সংখ্যা ৩১ এবং নির্বাচনের তারিখ ৮ জানুয়ারি/২২ ধার্য করায় এবিপিসির গঠনতন্ত্র এবং সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের সাথে ভয়ংকর তামাশা শুরু হওয়ায় রাশেদ-কাশেম প্যানেলের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিকল্প ছিল না। একইসাথে এবিপিসির বর্তমান কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। বিজ্ঞপ্তি

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code