ই’ইউ’- এর সদস্যপদ ধরে রাখতে পোল্যান্ডে বিক্ষোভ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ  ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে থাকতে পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইইউ আইনের চেয়ে পোলিশ আইন অগ্রাধিকার পাবে, পোলিশ সাংবিধানিক আদালতের এমন এক রায়ের পর রবিবার এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

Manual5 Ad Code

ওয়ারশ, ক্রাকাও ও পোজনানের মতো বড় বড় শহরগুলোতে এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইইউ সদস্যপদ ধরে রাখার পক্ষে মতামত জানানো হয়। পোল্যান্ডের বিরোধী দলও এই সমাবেশে অংশ নিয়েছে।

পোলিশ রাজধানীর ঐতিহাসিক ক্যাসেল স্কয়ারে সমবেত বিক্ষোভকারীদের জাতীয় পতাকা এবং ইইউ-এর পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। তারা সমবেত স্বরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পাশাপাশি ‘আমরা থাকবো’; ‘আমরা ইউরোপ’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

প্রসঙ্গত, পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত সম্প্রতি রায় দেন যে, কিছু ক্ষেত্রে ইইউ আইনের চেয়ে পোলিশ আইন অগ্রাধিকার পাবে।

ওয়ারশতে থাকা ডয়চে ভেলে প্রতিনিধি জেক প্যারোক বলেন, ‘প্রতিবাদকারীরা একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তা হচ্ছে তারা ইইউ-তে থাকতে চান।’

Manual8 Ad Code

অনেক প্রতিবাদকারী প্যারোকের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, সন্তানরা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় জোটটির বাইরে বড় হবে বলে আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

প্যারোক বলেন, ‘২০০৩ সালে যখন পোল্যান্ড ইইউ-তে যোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, তখনও এই স্কয়ারে একই রকম চিত্র ছিল। তখনও এভাবে ইইউ-এর পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। তবে পার্থক্যটা হচ্ছে তখন মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে সমবেত হয়েছিল। আর এবার তারা সমবেত হয়েছে উদ্বেগ থেকে। প্রতিবাদকারীদের দাবি হচ্ছে দেশটির সরকার যাতে কিছু ক্ষেত্রে ইইউ আইনের চেয়ে পোলিশ সংবিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি থেকে সরে আসে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে এবং থাকতে মৌলিক কিছু নীতি সদস্যদের মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো– কিছু কিছু বিষয়ে ইইউ আইনের বিধান এবং ইউরোপীয় আদালতের রায়ই হবে চূড়ান্ত। সদস্য দেশগুলোর সরকার ও আদালতকে তা মেনে নিতে হবে। কিন্তু পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত সম্প্রতি এক রায়ে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল চুক্তির কিছু ধারার সঙ্গে পোলিশ আইনের কোনও সামঞ্জস্য নেই। ওই রায়ের মধ্য দিয়ে পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত মূলত ইউরোপীয় আইন এবং ইউরোপীয় আদালতের শ্রেষ্ঠত্বের বিধান প্রত্যাখ্যান করে।

Manual5 Ad Code

ইউরোপীয় কমিশন বলছে, পোল্যান্ডে সম্প্রতি যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে দেশটির বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং আদালতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পোল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (পিআইএস) সংস্কার কর্মসূচির প্রথম টার্গেট ছিল সাংবিধানিক আদালত। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের মতে, পোলিশ এই সাংবিধানিক আদালতে এমন সব বিচারকদের এখন বসানো হয়েছে যারা হয় ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক না হয় দলের প্রতি সহানুভূতিশীল। এমনকি একজন বিচারকের নিয়োগও ছিল অবৈধ। সূত্র: ডিডাব্লিউ, বিবিসি।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code