ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তি : যা জানা গেছে

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ২ মাস আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।এই যুদ্ধ বৈশ্বিক তেলবাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি একমত হয়েছেন যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের ‘পারমাণবিক হুমকি’ পুরোপুরি দূর করতে হবে।তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

Manual7 Ad Code

ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে জব্দ করা ইরানি সম্পদের বিষয়টিও রয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, প্রাথমিক কাঠামোয় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি পরে ‘আলাদা আলোচনার’ বিষয় হবে।তবে নিউইয়র্ক টাইমস দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, প্রস্তাবিত চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে তেহরানের সম্ভাব্য অঙ্গীকার।

পত্রিকাটি জানায়, ইরান কীভাবে তা করবে, সে বিষয়টি ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনায়’ নির্ধারণ করা হবে।অন্যদিকে ইরানের ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থা জানায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।দুই সংবাদ সংস্থাই জানিয়েছে, সমঝোতা স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

Manual2 Ad Code

নেতানিয়াহু বলেন, শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে তারা একমত হয়েছেন যে, ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান দেশটির ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া।’আলোচনার অন্যতম বড় জটিল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক তেল পরিবহন পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Manual1 Ad Code

ইরান বলেছে, এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।শনিবার ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তির অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীও খুলে দেওয়া হবে।’এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে।তবে ফার্স বার্তা সংস্থা জানায়, চুক্তি চূড়ান্ত হলে কৌশলগত এই নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।তাসনিম জানায়, ‘হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না।’

সংস্থাটি আরও বলেছে, সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধও পুরোপুরি তুলে নিতে হবে। এতে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধের কথাই বোঝানো হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ থাকা সম্পদ ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছে ইরান।তাসনিম জানায়, ‘যেকোনো প্রাথমিক সমঝোতার শর্ত হিসেবে অন্তত আংশিকভাবে সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে’ বলে ইরান জোর দিচ্ছে।সংস্থাটি এক সূত্রের বরাতে বলেছে, ‘প্রথম ধাপেই ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ ছাড় না হলে কোনো চুক্তি হবে না।’

Manual5 Ad Code

একই সঙ্গে অবরুদ্ধ সব তহবিল ধারাবাহিকভাবে ছাড়ের নিশ্চয়তায় একটি স্পষ্ট ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
ওই সূত্র বলেছে, এই বিষয়েই মতপার্থক্যের কারণে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।ফার্সের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালে তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল প্রতিদিনই লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহ।ইরান আগেই বলেছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক যুদ্ধের সব ফ্রন্টে কার্যকর হতে হবে। এর মধ্যে লেবাননও রয়েছে।হিজবুল্লাহও জানিয়েছে, তারা বিশ্বাস করে ইরান তাদের পরিত্যাগ করবে না।তাসনিম জানায়, প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হবে। সেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘এই ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরাইলেরও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code