ইসলামে অনুমোদিত ও নিন্দনীয় ভিক্ষা, ঋণ ও তালাক

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

ধর্ম ডেস্কঃ 

Manual8 Ad Code

ইসলামের দৃষ্টিতে ভিক্ষাবৃত্তি, ঋণগ্রহণ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিন্দনীয় বৈধ হিসেবে স্বীকৃত। সমাজের কেউ কি সাধারণত ভিক্ষা করা, ঋণ নেওয়া ও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো পছন্দ করেন? কখনোই না।

ইসলাম ‘বৈধ-পবিত্র’ অর্থোপার্জনে উত্সাহ দেয়। সবার ‘রিজিকদাতা’ মহান আল্লাহ্ মানুষের জন্য ব্যবস্থা করেছেন ‘রিজ্কান কারিমা’ (সম্মানজনক জীবিকা) এবং এর অর্জন কৌশল হতে হবে ‘হালালান তাইয়্যেবা’ বা বৈধ ও পবিত্র (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮)। এ কথা সত্য, ভিক্ষাবৃত্তি সম্মানজনক জীবিকা নয়।

Manual2 Ad Code

শরিআর বিধানমতে, ভিক্ষা কখনো মুমিন ব্যক্তির পেশা বা বৃত্তি নয়। প্রিয়নবি (স.) বলেন, ‘যে মানুষ সর্বদা লোকের নিকট ভিক্ষা করে পরিণামে (কিয়ামতের দিন) তার মুখমণ্ডলে গোশত থাকবে না’ (বুখারি)। প্রিয়নবির (স.) সতর্কবাণী হলো—‘যে অভাবের কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করে তার অভাব দূর হবে না বরং যে তা আল্লাহর কাছে নিবেদন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট’ (আবুদাউদ)। প্রিয়নবি (স.) আরো বলেন, ‘শক্তিসম্পন্ন ও সুস্থ সবল ব্যক্তির পক্ষে ভিক্ষা করা হালাল নয়’ (তিরমিযি)।

Manual7 Ad Code

শরিআর সাধারণ নীতি, যার কাছে এক দিন এক রাত্রি টিকে থাকবার মতো সামর্থ্য আছে তার জন্যই ভিক্ষা করা হারাম। অনুরূপভাবে মিথ্যা আবশ্যক দেখিয়ে অথবা বিকৃত বা কৃত্রিমরূপ ধারণ করে অন্যের সাহায্য-সহানুভূতি কামনা করাও হারাম। ইসলাম কর্মহীন ও বেকারত্ব সমর্থন করে না বলেই প্রিয়নবি (স.) সাহায্যপ্রার্থীকে ‘বনে গিয়ে কাঠ কেটে’ স্বাবলম্বী হবার পথ দেখিয়েছিলেন।

Manual7 Ad Code

প্রিয়নবি (স.) ‘ঋণ, রোগ, শত্রু’ এ তিন জিনিসকে ক্ষুদ্র ও সামান্য মনে করে অবহেলা করতে নিষেধ করেছেন। ঋণগ্রহণ নিকৃষ্টতম দারিদ্রের লক্ষণ। এজন্যই নিতান্তই বাধ্য হলেও ঋণগ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এ প্রসঙ্গে বাইহাকি শরিফে হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে প্রিয়নবি (স.) বলেন ‘তোমরা ঋণগ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক হও। কেননা, তা রাতের দুশ্চিন্তা এবং দিনে লজ্জার কারণ’।

ইসলামে ‘করজে হাসানা’ তথা সুদ ও শর্তহীন ঋণগ্রহণকে সীমিত মাত্রায় সমর্থন করা হয়। এজন্যই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অর্থ সংশ্লিষ্ট ইবাদত (হজ, জাকাত, কুরবানি, ফিতরা) স্থগিত রেখে ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়। এমনকি সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত জাকাতগ্রহীতার ৮টি খাতের একটি ‘অসহায় ঋণগ্রস্ত’। প্রিয়নবি (স.) জানাজার আগে জানতে চাইতেন ‘এ ব্যক্তির কোনো ঋণ আছে কি?’ যদি বলা হতো আছে, তখন তিনি (স.) বলতেন, ‘ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আছে কি?’। যদি বলা হতো আছে, তখন তিনি (স.) ওয়ারিশদের বলতেন ‘ঋণ শোধ করে দাও…’ (শরহে সুন্নাহ)।

দুটি মন ও পরিবারের মেলবন্ধনে সংসার সুখের স্বর্গ এবং তা বজায় রাখা ইবাদততুল্য। কিন্তু তা একেবারেই অসম্ভব হলে বিবাহবিচ্ছেদ একটি উপায় মাত্র। পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার জন্য ‘তালাক’ নামক একটি সুরা রয়েছে। বাকারা, নিসা, নুর, মুজাদালা প্রভৃতি সুরায় বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন পারিভাষিক বিশ্লেষণ রয়েছে। প্রিয়নবি (স.) বলেন, ‘বিয়ে করো কিন্তু তালাক দিয়ো না—কারণ, এতে আল্লাহ্‌র আরশ কেঁপে ওঠে’ (কুরতুবি)। তাই প্রিয়নবি (স.) বলেন, ‘আল্লাহ্ তালাকের চেয়ে অধিক ঘৃণ্য কোনো জিনিস বৈধ করেননি’ (আবু দাউদ)।

বস্তুত ইসলাম নিরুপায় মানুষের সর্বশেষ অবলম্বন হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তি, ঋণগ্রহণ, বিবাহবিচ্ছেদকে নিন্দনীয় বৈধ কাজ হিসেবে অনুমোদন দেয় মাত্র।

লেখক: মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code