উপহারের ঘর কিছু মানুষ হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙে মিডিয়ায় ছবি দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

তদন্তে নয়টি জায়গায় দুর্নীতি পাওয়া গেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক জায়গায় ৬০০ ঘর। সেখানে হয়তো তিন–চারটা ঘর, ওই যে প্রবল বৃষ্টি হলো, ওই জন্য মাটি ধসে কয়েকটা ঘর নষ্ট হয়েছে। মাত্র নয়টি জায়গায় আমরা পেয়েছিলাম, যেখানে কিছুটা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি যে প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। আমাদের ইউএনও-ডিসি সমস্ত কর্মচারী ছিল। তারা কিন্তু অনেকে এগিয়ে এসেছে এই ঘরগুলো তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য। যারা ইট তৈরি করে, তারাও এগিয়ে এসেছে। অল্প পয়সায় তারা ইট দিয়ে দিয়েছে। এভাবে সবার সহযোগিতা, আন্তরিকতাটাই বেশি। কিন্তু এর মধ্যে দুষ্টু বুদ্ধির কিছু, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টকর। যখন এটা গরিবের ঘর, সেখানে হাত দেয় কীভাবে?

নেতা-কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যা–ই হোক, আমরা সেগুলো মোকাবিলা করেছি। তবে আমাদের নেতা-কর্মীদের এ ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকা দরকার। আমাদের নেতা-কর্মীরা সরেজমিনে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ছবি পাঠাচ্ছে। আমি সেটা দেখছি।

Manual1 Ad Code

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সাধারণত আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক দুই মাস বা চার মাস পরপর করতাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের সভা নিয়মিত করতে পারিনি। এটা করা সমীচীনও হতো না। এখন সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে, টিকাকরণও শুরু হয়ে গেছে। আমি মনে করলাম, একটা সভা করা দরকার। তা ছাড়া গতবার যেহেতু জাতিসংঘে সভায় যাইনি, এবার যাওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে। আমি ভাবলাম, তার আগে আমরা একটু বসি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, নির্বাচনও সামনে। সংগঠনটাও করতে হবে। এবারের করোনাভাইরাসের সময় দলের লোকেরা এবং সকল সহযোগী সংগঠন যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেনি। তাদের কোনো আগ্রহও ছিল না। প্রতিদিন টেলিভিশনে বক্তৃতা ও বিবৃতি দেওয়া, আর প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে একটু সমালোচনা করা ছাড়া। তাদের একটাই কাজ ছিল—আমাদের দোষারোপ করা। এটা ছাড়া আর কোনো কাজ মানুষের জন্য তারা করেনি বোধ হয়।

করোনার মোকাবিলায় সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কখনো একটা সরকারের পক্ষে একা এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব না। আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছে, তৃণমূল পর্যন্ত একটা শক্তিশালী সংগঠন থাকায়। এটা আমার বিশ্বাস। জানি এই কথা হয়তো অন্য কেউ লিখবেও না, বলবেও না। আমি শুধু বলব, এককভাবে শুধু সরকারি লোক দিয়ে সবকিছু সম্ভব হয় না।

Manual7 Ad Code

টিকা কর্মসূচির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টিকা কেনার জন্য সরকার সবার আগে উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতে একটা সময় ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমণ শুরু হলো, তা তারা আমাদের সরবরাহ করতে পারল না। তারপর আমরা যেখান থেকে যেভাবে পারি টিকা সংগ্রহ করি। এখন আর সমস্যা হবে না। আমরা নিয়মিত টিকা পাব। মানুষকে টিকা দিতে পারব।

করোনার সময় মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলে দেশের উন্নতি হচ্ছে। আমরা সরকারে আছি বলেই করোনা মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে, মানুষ সেবা পাচ্ছে। যারা সমালোচনা করে, তাদের বলব, ৭৫–এর পর থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত দেশের কী অবস্থা ছিল, সেটা যেন তারা একটু উপলব্ধি করে। তবে কিছু ভাড়াটিয়া লোক তো আছেই, সারাক্ষণ একটা মাইক লাগিয়ে বলতেই থাকবে। যে যা ইচ্ছে বলুক, আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। সেই বিশ্বাস নিয়ে চলি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে যে ঘোষণা করেছিলাম, সেটা করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

Manual8 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মহামারির কারণে আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকেরা সেভাবে কাজ করতে পারেনি। তারপরও আমি আটটি গ্রুপ করে দিয়েছিলাম, তারা কাজ করেছে। আমরা কিছু সাংগঠনিক তথ্য নেব। তা ছাড়া দীর্ঘদিন পরে বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনাদের কথা কিছু শুনব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code