

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুটি দল—গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—সম্প্রতি একীভূত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। কয়েক দফা বৈঠক ইতোমধ্যে হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহে দলীয় পর্যায় ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে নেতৃত্ব কাঠামো, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দলের সমন্বয়, দলীয় নামসহ নানা বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গণঅধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০২১ সালে দলটি রাজনৈতিক রূপ নেয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এনসিপির উদ্ভব। তরুণদের আন্দোলনের মাঠে দুই দলের নেতাদের একসাথে দেখা গেছে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
গণঅধিকার পরিষদ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছে, তবে নবগঠিত এনসিপি এখনো নিবন্ধন পায়নি। সাম্প্রতিক ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে উভয় দলের সমর্থিত প্যানেলের ভরাডুবি একীভূত হওয়ার আলোচনাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে পর্যন্ত আলোচনাগুলো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আছে, তবে সবই ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ। আমাদের লক্ষ্য একসাথে কাজ করা।” নেতৃত্ব কাঠামো এখনো নির্ধারিত না হলেও নুরুল হক নূর, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন শীর্ষ পর্যায়ে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, “গণঅধিকার পরিষদের অনেক সিদ্ধান্তই আমাদের সাথে মিলে যাচ্ছে। তবে একীভূত নয়, বরং তারা আমাদের দলে যোগ দেবে—এমন প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।” তার ভাষায়, নেতৃত্ব হবে সমষ্টিগত, আর পদ বণ্টন হবে দক্ষতার ভিত্তিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলেরই মতাদর্শ প্রায় একই রকম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “২০১৮ সাল থেকে এই নেতারা একই ধরণের চিন্তাভাবনায় যুক্ত। এনসিপি বুঝতে পারছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হবে। তাই এখন ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।”
তিনি মনে করেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের জনপ্রিয় ইমেজও এনসিপি কাজে লাগাতে চাইছে। একইসাথে, নূরুল হক নূরেরও দলীয় হিসাব-নিকাশ রয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এই একীভূতকরণ হলে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।