অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual7 Ad Code

Manual7 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেবে বাংলাদেশ— পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি ৫৫টি মিশনের মিশন প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। একাদশ সংসদ গঠনের পর বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংটি ছিল এই সরকারের সঙ্গে কূটনীতিকদের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা।

কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে সবাইকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ অন মার্চ টুওয়ার্ডস প্রসপারিটি, ইলেকশন মেনিফেস্টো ২০১৮ অব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা দেওয়া হয়। সেখানে বর্তমান সরকারের খাতওয়ারি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিগত আমলে অর্জিত সব সাফল্যের উল্লেখ রয়েছে।

ব্রিফিং শেষে ঢাকার কূটনীতিক কোরের প্রধান ও ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত আর্যবিশপ জর্জ কোচেরি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার, আগামী দিনের পরিকল্পনা (ভিশন) সম্পর্কে জানান হয়েছে। আগামী দিনে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।’

Manual2 Ad Code

সদ্যসমাপ্ত ভোট নিয়ে কূটনীতিকদের কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি এবং এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আর্যবিশপ জর্জ কোচেরি বলেন, ‘কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছি। ড. এ কে আবদুল মোমেনকে বলেছি, তার নতুন মিশন বাস্তবায়নে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

কূটনৈতিক ব্রিফিং সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়গুলো সবার সামনে বিস্তারিত আকারে তুলে ধরেন। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বে পরিণত হতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

Manual2 Ad Code

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে অগ্রাধিকার বিষয় হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সবার সমর্থন চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কূটনীতিকদের বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্নীতি বিষয়ে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস হবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনীতিকদের সঙ্গে এ কে আব্দুল মোমেনের প্রথম বৈঠক এটি। বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভূমিকার রাখতে কূটনীতিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে সরকারের সাফল্যের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। দারিদ্র্য দূরীকরণ, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্যানিটেশন, রিজার্ভ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি। এছাড়াও অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে সরকারের ২০২১, ২০৩০ ও ২০৪১ সালের ভিশন অর্জনের লক্ষ্য এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বৈঠকে তারুণ্য এবং নারীর ক্ষমতায়ন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়াও মানুষের ক্ষমতায়ন, উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও শান্তি, অটিজম সচেতনতার বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ভূমিকার রাখতে সাহায্য অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ অনেকে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code