এক যুগেও সংস্কার শেষ না হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগবাড়ছে জনঅসন্তোষ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

এম আহমদ আলী
দীর্ঘ এক যুগেও সিলেট-সুলতানপুর সড়কের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির ¯’ানে ¯’ানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল তো দূরের কথা, সড়ক দিয়ে পায়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা আটকে আছে দীর্ঘদিন থেকে। ফলে খানাখন্দ আর কাদা জলে একাকার হয়ে আছে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি। এমন বাস্তবতায় চরম দুর্ভোগে দক্ষিণ সুরমা, ফে ুগঞ্জ,বালাগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারার তীরবর্তী ফতেহ পুর ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।
সিলেটের চন্ডিপুল থেকে দক্ষিণ সুরমার সিলাম, জালালপুর, গহরপুর, সুলতানপুর আজিজপুর হয়ে বালাগঞ্জ বিস্তৃত এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সিলেট নগরীতে যাতায়াত করেন। সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা-ঘাটের কারণে রোগী থেকে শুরু করে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার। রোগী বহনকারী যানবাহন এ রোডে ভয়ে চলাচল করে না। রাস্তায় ঘটেছে সন্তান প্রসবের ঘটনাও। আর যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হ”েছ প্রায়শ । বাড়ছে গাড়ী ভাড়া। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে হিমশিম খা”েছন সাধারণ মানুষ। এ অব¯’ায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী জনসাধারণ বাধ্য হয়ে বালাগঞ্জ হয়ে তাজপুর দিয়ে সিলেট যাতায়াত করছেন। আবার কেউ কেউ গহরপুর-মাদ্রাসা বাজার দয়ামির হয়ে সিলেট যাতায়াত করছেন। অনেকে জালালপুর রায়খাইল হয়ে সিলাম ইউনিয়নের নয়াবাজার হয়ে তেলিবাজার দিয়ে আবার সিলাম চকের বাজার হয়ে সিলেট যাতায়াত করেন। জালালপুর থেকে মোগলাবাজার হয়েও অনেকে সিলেট যাতায়াত করছেন অধিক ভাড়া দিয়ে।

Manual2 Ad Code

 

Manual7 Ad Code


ভুক্তভোগীরা এ অব¯’ার জন্য এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের দায়ী করেছেন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর(সওজ) সিলেট এর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প সিলেট (তেলিখাল) সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের প্রশস্তকরণসহ উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তর ¯’াপন করেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ মার্চ তিনি এই সড়কে সারফেসিং (ওভারলে) কাজের উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও কিছু ¯’ানে বালু পাথর ফেলেই দায় শেষ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কিš‘ দায়িত্বরত প্রকৌশলী দেখালেন করোনা, বন্যা আর পাথর সংকটের অজুহাত।
সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ রোড প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন জানান,রাস্তার কাজ শুরুর কয়েক মাস পরেই বন্যা, করোনা চলে আসে। সেই সাথে শুরু হয় পাথর সংকট। যে কারণে সংস্কার কাজ মাঝপথে থামিয়ে দিতে হয়েছে। তবে স¤প্রতি এলসি পাথর আমদানি শুরু হয়েছে, ফের কাজ শুরু হবে।

Manual1 Ad Code

সিলাম এলাকার বাসিন্দা ডিজিএফ আই এর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আজিজুর রহমান গেদন অভিযোগ করে বলেন, সিলেট-সুলতানপুর সড়কের উন্নয়নের নামে যা হ”েছ তা সরকারী রীতি নীতির পরিপš’ী। জনদুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য নয়, জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকার এই সড়কের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। কিš‘, সংশ্লিষ্টরা যা করছেন তা দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির মতো গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এলাকাবাসীর পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী সিলেট এর সাথে যোগাযোগ করে অভিযোগ দিয়েছি। কিš‘ কোন ফল পাইনি। সংস্কার কাজ শুরুর প্রায় দেড় বছর হয়ে গেলেও এ পর্যন্ত বিভিন্ন ¯’ানে আরসিসির কাজ চলছে। কিš‘ বিশাল সড়কে বালু পাথর ফেলে রাখলেও এখন এই পুরো সড়কে পানি জমে শুধু পুকুরসম গর্ত আর গর্ত। এজন্য যানবাহন চলাচল দুরুহ হয়ে পড়েছে। তিনি দায়িত্বহীনদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান।
জানা গেছে, সড়কের নাজুক অব¯’ার কারণে এ রোড দিয়ে টাউন বাস সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতি। বর্তমানে সড়ক দিয়ে অটোরিক্সা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
সওজ, সিলেট এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া কাজের দীর্ঘসূত্রতার জন্য পাথর সংকটের অজুহাতকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান,এখানে সওজ এর উদাসীনতার কিছু নেই। মূলত পাথরের জন্যই কাজ আটকে আছে। পাথর সংকট কেটে গেলে ফের সংস্কার কাজ শুরু হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code