এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি বুধবার

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৫৭ minutes ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে এ চুক্তি সই হবে। চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের গ্রাউন্ড লেভেলের উৎসব হলে চুক্তি সই অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং এয়ারবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

চুক্তিতে এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করবেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

Manual7 Ad Code

‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ অধিগ্রহণের আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে। তবে এসব উড়োজাহাজ কিনতে মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তির চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ মূলত দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও পরিচালনা করা হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে। ফলে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে পারে ২০৩৩ সালে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির জেট বহরের প্রধান অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। নতুন এয়ারবাস যুক্ত হওয়ার পর বিমান একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাসের তৈরি উড়োজাহাজ পরিচালনা করবে।

বোয়িং থেকেও আসছে ২৫ উড়োজাহাজ

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ওই চুক্তির আওতায় রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।

পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে পারে ২০৩১ সালে। সবগুলো উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে।

Manual8 Ad Code

চুক্তি সই হলেও এখনই এসব উড়োজাহাজের মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে বিমানের পক্ষ থেকে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

বর্তমান বহর ১৯, নতুন করে আসবে ৩৫

Manual8 Ad Code

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮।

তবে বহরের দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়বে। এ কারণে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের চুক্তিবদ্ধ ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। বর্তমানের ১৯টি উড়োজাহাজের সঙ্গে এগুলো যোগ হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াবে।

বিমানের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৯টি প্রশস্ত কাঠামোর এবং ১৬টি সরু কাঠামোর।

Manual2 Ad Code

বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে বিমান। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code