ওসি প্রদীপের এত্ত সম্পদ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি: সিনহা হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ট টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের দায়সারা একটি হিসাব দাখিল করেছিল প্রদীপ দম্পতি। কিন্তু মাঝপথে অজ্ঞাত কারণে থেমে যায় সেই অনুসন্ধান। মেজর (অব) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যামামলায় গ্রেপ্তারের পর ফের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এরই মধ্যে প্রভাব খাটিয়ে গড়া অবৈধ সম্পদের হিসাব এসেছে দুদকের হাতে। নিজের নামে সামান্য কিছু সম্পদ দেখানো হলেও বেশিরভাগই স্ত্রী চুমকির নামে। ২৬ বছরের চাকরিজীবনে প্রদীপ মানুষকে ক্রসফায়ারের ভয়, ঘুষবাণিজ্য, দখলবাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। টেকনাফ থানায় ওসি হিসেবে যোগ দিয়ে চোরাকারবারি-ইয়াবাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। প্রবাসী ও শিল্পপতিদের ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। দুদক ও এনবিআরের চোখ ফাঁকি দিতে সম্পদ দেখানো হয়েছে স্ত্রী চুমকির নামে।
প্রদীপের স্ত্রী চুমকি গৃহিণী হলেও দুদকে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতে মৎস্য খামারি দেখানো হয়েছে। ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনের মৎস্য খামার থেকে চুমকি প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। লাভের টাকায় চট্টগ্রাম নগরীতে কিনেছেন জমি, গাড়ি ও বাড়ি। নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় চার শতক জমি (দাম ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা)। ওই জমিতে গড়ে তোলা ছয়তলা ভবনের (মূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা); পাঁচলাইশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেনা হয় ৬ গন্ডা ১ কড়া জমি (দাম এক কোটি ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৬০০ টাকা); ২০১৭-১৮ সালে কেনা হয় কক্সবাজারে ঝিলংজা মৌজায় ৭৪০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট (দাম ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা)। সব স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৩০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছেÑ প্রাইভেটকার (দাম পাঁচ লাখ টাকা), মাইক্রোবাস (দাম সাড়ে ১৭ লাখ টাকা) ও ৪৫ ভরি স্বর্ণ। ব্যাংকে ৪৫ হাজার ২০০ টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code