ওয়েব সিরিজ নিয়ে বিতর্ক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো আমি সব পজিটিভ পরিবর্তনের পক্ষে। সে কারণে ওয়েব সিরিজের পক্ষেই আছি। তাই বলে ওয়েব সিরিজের নামে যৌনাচার মোটেও সমর্থন করি না। অনেকে যৌনাচারকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা মনে করেন। তা করতেই পারেন। তবে তা নিজের ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সময়ের কথা তুলে আধুনিকতার দোহাই দিয়ে যৌনতাকে গ্লোরিফাই করার জন্য যারা অতি বিপ্লবী হয়ে উঠেছেন আমি তাদের পক্ষে নই।
যুগের দাবি বলে একটা কথা আছে। যুগ অর্থাৎ সময়ের কথা বলছি। সময়ের সাথে সাথে সংস্কৃতির ধারাও বদলে যেতে থাকে। সময় যে বদলে গেছে বা বদলে যায় তা মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ দেখলেই বোঝা যায়। বেশি না, আজ থেকে দশ বছর আগের কথা একবার ভাবুন তো। কেমন ছিল বাংলাদেশের সামাজিক আচার-আচরণ? বাসা-বাড়ির ড্রয়িং রুম অর্থাৎ বসার ঘরের পরিবেশ কেমন ছিল? একটি পরিবার কতটা আধুনিক অর্থাৎ কতটা অগ্রসরমান তা সহজেই বোঝা যায় পরিবারটির ড্রয়িংরুম অর্থাৎ বসার ঘরের পরিবেশ দেখে। অনুভবের আয়নায় দেখার চেষ্টা করলে সহজে বুঝতে পারবেন প্রায় প্রতিটি পরিবারের ড্রয়িংরুম অর্থাৎ বসার ঘরের পরিবেশ বদলে গেছে।
আগে হয়তো বসার ঘরের দেয়ালে শোভা পেত সাদা কাপড়ে রঙবেরঙের সুতোয় বোনা যাও পাখি বলো তারে সে যেন ভোলে না মোরে এই ধরনের অন্তর ছোঁয়া সম্পর্কের ছবি ও কথামালা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি জসীমউদদীনসহ ইতিহাসখ্যাত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ছবি অনেকের বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকতো। এখন ওই ছবিগুলো আর দেখা যায় না। দেশের অগ্রসরমান প্রায় প্রতিটি পরিবারের বসার ঘরে বইয়ের আলমারি ছিল। এখন বইয়ের আলমারিও উধাও। সেখানে স্থান করে নিয়েছে টেলিভিশন সেট। ১০ বছর আগেও টেলিভিশনই ছিল আনন্দ-বিনোদনের প্রধানতম মাধ্যম।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code