কখন দেশে ফিরবেন তারেক রহমান?

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বছর দেড়েক কারাগারে থেকে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে আসেন, এবং এখনও লন্ডনেই আছেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি রাজপথে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু দলটি সাংগঠনিক দিক থেকে নিজেদের শক্তভাবে গুছিয়ে আনতে পারেনি। আর সেই পরিস্থিতিতেই বিএনপির মাঠপর্যায় থেকে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার তাগিদ রয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজপথের বিরোধী দল শূণ্য। মাঠে কারত্ত শক্ত ভূমিকা নেই। এতে রাজনীতির মাঠ একক নিয়ন্ত্রণে আছে সরকারের। সরকারের মামলা, হামলা, গুম ত্ত খুনের ভয়ে অন্য কোন রাজনৈতিক দলগুলোত্ত মাঠে নেই। জাতীয় পার্টি নামে কিংস পার্টি সংসদে ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকা পালন করছে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দাবি আদায়ের একমাত্র ভূমিকা পালন করতে বিএনপি।

Manual7 Ad Code

কিন্তু, দলটির করুন দশা প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে। সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিনের সরকারের সময় বলা চলে দলটির ত্তপর ক্রাকডাউন চলেছে। সেইসময় থেকে দলটি আদৌত্ত রাজনৈতিক মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ত্তই সময় চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যান তারেক রহমান। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দেশে থাকলেত্ত তিনি প্রায় ৩ বছর কারাগারে থাকেন। বলা চলে সরকারের করুনায় তিনি বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে মুক্তি পেয়েছেন। বিএনপি যদি আবার শক্ত কর্মসূচিতে যায় তাহলে আবার তাকে কারাগারে যেতে হতে পারে। এ কারণে আপাততো কোন শক্ত কর্মসূচিতে যাবে না দলটি। আর বর্তমান সরকার যতোদিন ক্ষমতায় থাকবে ততোদিন তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফেরতের কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ, তিনি দেশে আসলেই তাকে কারাগারে যেতে হবে। তার মাথার ত্তপর রয়েছে একাধিক মামলার খড়গো।দেশের মাঠের রাজনীতির যে পরিস্থিতি আপাততো আগামী ১০ বছর কোন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাহলে তারেকের ভবিষ্যত কী? এনিয়ে রয়েছে বিভিন্নজনের বিভিন্ন মত।
সেনা সমর্থিত বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছিলেন। দীর্ঘসময় পর গত সপ্তাহে লন্ডনে তিনি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দলটির নেতারা বলছেন, এখন পুরো বিএনপিই প্রস্তুত, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বক্তব্য হচ্ছে, তারেক রহমান এখন দেশে ফিরতে অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। একইসাথে মামলা বা আইনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়কেও তারা বিবেচনায় নিচ্ছেন। সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে ফেরত আনার নির্দেশ দেয়। এর প্রতিবাদে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলছেন, সরকারের শ্ক্ত অবস্থানের কারণে তারেক রহমানের দেশে ফেরাটা কতটা সহজ হবে তা বলা মুশকিল। তিনি বলেন, ”তারেক রহমানের দেশে ফেরাটা যতটা সহজ মনে হয়, ততটা সহজ হবে না।
কারণ তার ফেরার ক্ষেত্রে বাধা সরকার সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। এছাড়া হাওয়া ভবন নিয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তি এখনও কিছুটা রয়েছে। কিন্তু কোন মামলায় এখনও সাজা হয়নি। ফলে হওয়া ভবনে বিষয় খুব একটা সমস্যায় ফেলবে না।তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে এবং এগুলো মুলত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে। আর বেশিরভাগ মামলাই উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত হয়ে রয়েছে। তবে এ গুলোর মধ্যে ২০০৮ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলাতেও তারেক রহমান অভিযুক্ত রয়েছেন। এটি সহ দুটি মামলার বিচারকাজ চলছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code