

বেনাপোল (যশোর):
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত ত্রিমোহিনী বাজারসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের ওপর ১৯ বছর আগে তৈরি ২৭৫ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটি কেশবপুরসহ পাঁচ উপজেলাবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ এই সাঁকোটি যে কোনো সময় ভেঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী ধারণা।
ব্যবসায়িক, চাকরি, লেখাপড়াসহ যেকোনো প্রয়োজনে কেশবপুর, কলারোয়া, মণিরামপুর, তালা, পাটকেলঘাটা উপজেলার মানুষকে ত্রিমোহিনী বাজারসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদ পারাপার করতে হয়।
এলাকাবাসী এক সময় নৌকায় এই নদ পারাপার হতেন। পারাপারে জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০০১ সালে স্থানীয় লেয়াকত আলী জমিদারের উদ্যোগে নাসির শেখ, মৃত আমির সরদারসহ ২০/২৫ জন মিলে ওই নদের ওপর চার লাখ টাকা ব্যয়ে ২৭৫ ফুটের একটি সাঁকো নির্মাণ করেন।
এটির উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের তৎকালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সেসময় এমপি হাবিব সাঁকের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন এবং নদের ওপর জনস্বার্থে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরে সরকারের পালাবদল হলেও কপোতাক্ষ নদের দু’পাড়ের মানুষের কাছে ব্রিজের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে। বাধ্য হয়েই দু’পারের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হলেও কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নির্মিত হলে কেশবপুর, তালা, কলারোয়া উপজেলার লোকজনের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ওপারের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে কেশবপুরের বিভিন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ব্যাংকসহ অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এসময় পারাপার হওয়াদের কাঁধে বেগুনের খাচি, ধান, পাট, মাথায় সবজি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পারাপার হতে দেখা যায়। অনেকে তাদের প্রতিদিনের কষ্টের কথা জানান।
তারা বলেন, সেতু না থাকায় যানবাহনের অভাবে কাঁধে ও মাথায় করে সবজি, ধান, পাট নিয়ে ত্রিমোহিনী ও কেশবপুর বাজারে যেতে বাধ্য হন তারা। তাছাড়া, বর্ষা মৌসুমে ১/২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।
তারা দ্রুত কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। এমনকী ব্রিজটি তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অনেক দপ্তরে আবেদনও করেছেন।
লেয়াকত আলী জমিদার, দেয়াড়া গ্রামের ইউপি সদস্য বাবর আলী সরদার মন্টুসহ কপোতাক্ষ নদের দু’পাড়ের ভুক্তভোগী মানুষের একটাই দাবি, কপোতাক্ষের ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণ হলে কেশবপুর, তালা, কলারোয়ার বিভিন্ন পেশার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হবে না এবং নদের দু’পাড়ের সকল প্রতিষ্ঠানসহ বাজারটিও উন্নত হবে।
তাছাড়া যাতায়াতের সুব্যবস্থার ফলে কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।